মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৩

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (২য় পর্ব)

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (২য় পর্ব)


১৭. সেহরির ফযিলত (১)

আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ فَلا تَدَعُوهُ وَلَو أَنْ يَجرَعَ أحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ ومَلائِكتَهُ يُصَلُّونَ عَلى المُتسَحِّرينَ» رَوَاهُ أَحْمَد.
“সেহরি বরকতময় খানা, তোমরা তা ত্যাগ কর না, যদিও তোমাদের কেউ একঢোক পানি গলাধঃকরণ করে, কারণ আল্লাহ সেহির ভক্ষণকারীদের ওপর রহমত প্রেরণ করেন ও ফেরেশতাগণ তাদের জন্য ইস্তেগফার করেন”[1]

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (৩য় পর্ব)

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (৩য় পর্ব)



৩৬. রোযাদারের জন্য শিঙ্গা ব্যবহার করা

শাদ্দাদ ইব্‌ন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে ‘বাকি’ নামক স্থানে এক ব্যক্তির নিকট আগমন করেন, যে শিঙ্গা লাগাচ্ছিল, তখন আঠারো রমযান তিনি বললেন:
«أَفْطَرَ الحَاجِمُ والمحْجُومُ» رواه أبو داود وصححه أحمد والبخاري.
“যে শিঙ্গা লাগায় আর যার লাগানো হয় উভয় ইফতার করল”।[1]

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (৪র্থ পর্ব)

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিক্ষা ও মাসায়েল (৪র্থ পর্ব)


৫৩. যে ইতিকাফ করার মানত করেছে

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল, আমি জাহেলি যুগে মানত করেছি, একরাত মসজিদে হারামে ইতিকাফ করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর, অতঃপর তিনি একরাত ইতিকাফ করেন”বুখারি ও মুসলিম

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

জাকাত

জাকা



জাকাত

কুরআনের আলোকে যাকাতের বিধান 

প্রিয় ভইয়েরা! কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন :
]وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ[ (البينة:৫)
'তাদের এ মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা নিবিষ্ট মনে একান্তভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদত করবে, যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে, জাকাত প্রদান করবে, আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।'[১]

তারাবীহর নামাযের রাকআত সংখ্যা

তারাবীহর নামাযের রাকআত সংখ্যা



তারাবীহর নামাযের রাকআত সংখ্যা

ভূমিকা: আল্লাহ তায়ালা বলেন: 
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্‌র নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও কেয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সূরা নিসাঃ ৫৯)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: 
আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা সে সময় আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা। (দেখুন: আবু দাউদ, অধ্যায়: কিতাবুস্‌ সুন্নাহ, তিরমিযী, অধ্যায়: কিতাবুল ইল্‌ম। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীছটি হাসান সহীহ। মুসনাদে আহমাদ, (৪/১২৬), মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়া (১০/৩৫৪।)

তারবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?

তারবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?



তারাবীহর রাকায়াত সংখ্যা ৮ না ২০?
আল্লামা উসাইমীন (রহ:) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা

সম্মানিত শাইখ মোহাম্মাদ সালেহ আল উছাইমীন (র:) বলেন: সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের প্রভু আল্লাহ তায়ালার জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর।
অতঃপর আমি তারাবীর নামায বিষয়ে একটি লিফলেট দেখতে পেলাম, যা মুসলমানদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। আমি আরও জানতে পারলাম যে, প্রবন্ধটি কতিপয় মসজিদে পাঠ করা হয়েছে। প্রবন্ধ বা লিফলেটটি খুবই মূল্যবান। কেননা লেখক তাতে তারাবীর নামাযে খুশু-খুযু এবং ধীর স্থিরতা অবলম্বনের উপর উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে ভাল কাজের বিনিময়ে ভাল পুরস্কার দান করুন।

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

ফতোওয়া সিয়াম: রোযা সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি প্রশ্নোত্তর

ফতোওয়া সিয়াম: রোযা সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি প্রশ্নোত্তর 



মূল: আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উছাইমীন (রাহ:)
অনুবাদক: শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী

প্রশ্নঃ (৩৯২) ছিয়াম ফরয হওয়ার হিকমত কি?
উত্তরঃ পবিত্র কুরআনের নিম্ন লিখিত আয়াত পাঠ করলেই আমরা জানতে পারি ছিয়াম ফরয হওয়ার হিকমত কি? আর তা হচ্ছে তাক্বওয়া বা আল্লাহ্‌ ভীতি অর্জন করা ও আল্লাহ্‌র ইবাদত করা। আল্লাহ্‌ বলেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمْ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে করে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পার।(সূরা বাক্বারাঃ ১৮৩) 
তাক্বওয়া হচ্ছে হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। ব্যাপক অর্থে তাক্বওয়া হচ্ছে, আল্লাহ্‌র নির্দেশিত বিষয় বাস্তবায়ন করা, তাঁর নিষেধ থেকে দূরে থাকা। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ والْجَهْلَ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
যে ব্যক্তি (রোযা রেখে) মিথ্যা কথা, মিথ্যার কারবার ও মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, তার খানা-পিনা পরিহার করার মাঝে আল্লাহর কোন দরকার নেই।[1]

তারাবীহ্‌ সালাতের রাকা‘আত : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

তারাবীহ্‌ সালাতের রাকা‘আত : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ



তারাবীহ্‌ সালাতের রাকা‘আত : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

ভূমিকা

শরী‘আতের মূল হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট হতে যা নিয়ে এসেছেন। আর নবীর যুগই হলো শরী‘আতের যুগ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ﴾ [الحشر: 7]
‘‘তোমাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধর এবং যা হতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাক’’।[1]

রোজার আদব

রোজার আদব 



রোজার আদব 

আদব হল মানুষের জীবনের সৌন্দর্য। ইবাদত-বন্দেগির আদবসমূহ ইবাদতকে উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ করে দেয়। তাই প্রত্যেকটি ইবাদতের রয়েছে কিছু আদব-কায়দা বা শিষ্টাচার। কিছু আদব হল অবশ্য পালনীয় যা বাস্তবায়ন না করলে ইবাদতটি গ্রহণযোগ্য হবে না, আর কিছু হল মোস্তাহাব অর্থাৎ যা পালন করলে ইবাদতটি পরিপূর্ণতার সহায়ক হয় এবং ইবাদতের মাঝে কোন ক্ষতি হয়ে গেলে তা কাটিয়ে উঠা যায় ও পরিপূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই আমরা এখানে সিয়ামের কতিপয় আদব আলোচনা করব। আমরা যদি এ আদবসমূহ মান্য করে সিয়াম আদায় করতে পারি তবে আল্লাহর ফজলে আমরা সিয়ামের পূর্ণ সওয়াব বা প্রতিদান লাভ করতে সক্ষম হব।

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

রোজাদার বোনদের প্রতি...

রোজাদার বোনদের প্রতি...



যে সকল বোন রমজান পেল তাদের উদ্দেশ্যে

সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের রমজান মাস নসীব করেছেন। আমরা তার কাছেই প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের রমজানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করার তাওফীক দান করেন। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো তিনি যেন ক্ষমা করে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ও তার সকল সাহাবীদের উপর।
এটি একটি ক্ষুদ্র চিঠি যা আমি আমার মুসলিম বোনদের জন্য লিখেছি। চিঠিটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করে আলোচনা করেছি। আল্লাহর কাছেই দুআ করছি তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। তিনিই সর্বশ্রোতা, সাড়া দানকারী।

বইঃ সহীহ বুখারী (১ম - ৬ষ্ঠ খণ্ড) - তাওহীদ পাবলিকেশন্স [UPDATED] - ফ্রি ডাউনলোড

বইঃ সহীহ বুখারী (১ম - ৬ষ্ঠ খণ্ড) - তাওহীদ পাবলিকেশন্স [UPDATED] - ফ্রি ডাউনলোড


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু


বইঃ সহীহ বুখারী (১ম - ৬ষ্ঠ খণ্ড) - তাওহীদ পাবলিকেশন্স [UPDATED] - ফ্রি ডাউনলোড

সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ ইসলামে হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র বলা হয় সেই জ্ঞান সম্পর্কে যার সাহায্যে রাসুল্লাহ (সঃ) এর কথা, কাজ, ইত্যাদি সম্পর্কে অগ্রগতি লাভ করা যায়। যে কাজ তার উপস্থিতিতে সম্পাদন করা হয়েছে, কিন্তু তিনি তা নিষেধ করেননি, এমন কাজও হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। হাদিস শাস্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত। এক ইলমে রওয়ায়েতুল হাদিস, দুই ইলমে দেবায়াতুল হাদিস। মুহাদ্দিসগন হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ধারনে যে বিশ্বস্তত ও আমানতদারীর পরিচয় দিয়েছেন, তা অতুলনীয়। কুরআন মজীদের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য সাহাবায়ে কিরাম যেরুপ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন হাদিসের ক্ষেত্রেও অনেক মুহাদ্দিস তাই করেছেন। এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ প্রচুর দায়িত্ব বোধের পরিচয় দিয়েছে।

মুহাদ্দিসগন হাদিসের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ও সাধনা করেছেন। তারই প্রমান হচ্ছে ইমাম বুখারী (রহ) এই গ্রন্থ সহিহুল বুখারী। বাজারে আরও অনেক অনুবাদ থাকা শর্তেও তাওহীদ প্রকাশনীর বুখারী প্রকাশ করার পিছনে যে কারণ গুলো কাজ করেছে তা নিচে দেয়া হলঃ

সুস্বাগত মাহে রমযান

সুস্বাগত মাহে রমযান

বাড়িতে বিশেষ কোনো বিশেষ মেহমান আসার তারিখ থাকলে আমরা পূর্ব থেকেই নানা প্রস্তুতি নেই। ঘরদোর পরিষ্কার করি। বিছানাপত্র সাফ-সুতরো করি। পরিপাটি করি বাড়ির পরিবেশ। নিশ্চিত করি মেহমানের যথাযথ সম্মান ও সন্তুষ্টি রক্ষার সার্বিক ব্যবস্থা। তারপর অপেক্ষা করতে থাকি মেহমানকে সসম্মানে বরণ করে নেবার জন্য। আমাদের দুয়ারেও আজ কড়া নাড়ছে এক বিশেষ অতিথি। এমন অতিথি যার আগমনে সাড়া পড়ে যায় যমীনে ও আসমানে! আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায় সমগ্র সৃষ্টি জগতে! আল্লাহর হাবীবের মুখেই শুনুন সে কথা-
« إذا كَانَ أَوَّلُ ليْلَةٍ من شَهرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّياطِينُ ومَرَدَةُ الجِنِّ، وغُلِّقَتْ أبوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ منْهَا بَابٌ، وفُتِحَتْ أَبوَابُ الجَنَّةِ فلمْ يُغْلَقْ منْها بَابٌ، ويُنَادِي مُنَادٍ: يا بَاغِيَ الخَيرِ: أَقْبِلْ، ويا بَاغِيَ الشَّر: أَقْصِرْ، ولله عُتَقَاءُ مِنَ النَّار وذَلكَ كُلَّ لَيْلَةٍ » .
যখন রমযানের প্রথম রাত্রি আগমন করে শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের সকল দরোজা বন্ধ করে দেয়া হয়; খোলা রাখা হয় না কোন দ্বার, জান্নাতের দুয়ারগুলো অর্গলমুক্ত করে দেয়া হয়; বদ্ধ রাখা হয় না কোন তোরণ। এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, হে পুণ্যের অনুগামী, অগ্রসর হও। হে মন্দ-পথযাত্রী থেমে যাও আবার অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এমনটি করা হয় রমযানের প্রতি রাতেই’[1]

বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৩

প্রশ্নোত্তরে সিয়াম (১ম পর্ব)

প্রশ্নোত্তরে সিয়াম (১ম পর্ব)



১ম পর্ব | ২য় পর্ব

সূচীপত্র
বিষয়
১. সিয়াম : অর্থ ও হুকুম
২. রমযান মাসের ফযীলত
৩. সিয়াম পালনের ফযীলত
৪. সিয়ামের শিক্ষা ও উপকারিতা
৫. সিয়াম ত্যাগকারীর শাস্তি
৬. চাঁদ দেখা
৭. সিয়াম কাদের উপর ফরয
৮. সিয়াম অবস্থায় যা অবশ্য করণীয়
৯. সিয়ামের সুন্নাত আদব
১০. সিয়ামের নিয়ত : সময় ও পদ্ধতি
১১. সিয়ামের প্রকারভেদ
১২. সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহ
১৩. যেসব কারণে সওম মাকরূহ হয়ে যায়
১৪. সিয়াম অবস্থায় যেসব কাজ মুবাহ অর্থাৎ বৈধ
১৫. সিয়ামের কাযা ও কাফফারার বিধান
১৬. অসুস্থ ব্যক্তির সিয়াম
১৭. অতি বৃদ্ধ, অচল ও চিররোগীদের সিয়াম
১৮. মুসাফিরের সিয়াম
১৯. গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের সিয়াম
২০. ঋতুবতী মহিলাদের সিয়াম
২১. তারাবীহর সলাত
২২. বিতরের সালাত
২৩. লাইলাতুল কদর
২৪. ই'তিকাফ
২৫. ফিত্‌রা
২৬. ঈদ : সংজ্ঞা, প্রচলন ও হুকুম আহকাম
    ১-খাবার গ্রহণ
    ২-মেয়েদের ঈদের সলাতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
    ৩-ঈদের সলাত শুরু ও শেষ সময়
    ৪-ঈদের সলাতের স্থান
    ৫-ঈদের সলাতে আযান ও ইকামাত নেই
    ৬-ঈদের সলাতে ভিতরকার অতিরিক্ত তাকবীর সংখ্য
    ৭-ঈদের সলাত আদায়ের পদ্ধতি
    ৮-ঈদের খুৎবা
    ৯-ঈদের জামাআত না পেলে
    ১০-ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
    ১১-ঈদে যা বর্জনীয়
২৭. নফল সিয়াম
    ১-শাওয়াল মাসের ৬টি রোযা
    ২-যিলহাজ্জ মাসের ১ম দশকের সিয়াম
    ৩-আরাফার দিনের সিয়াম
    ৪-মুহাররম মাসের সওম
    ৫-আশুরার সওম
    ৬- প্রতি চন্দ্রমাসে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সিয়াম
    ৭-সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম
    ৮-শাবান মাসের সিয়াম
    ৯-এক দিন পর পর সিয়াম
    ১০-বিবাহে অসমর্থ যুবকদের সিয়াম

প্রশ্নোত্তরে সিয়াম (২য় পর্ব)

প্রশ্নোত্তরে সিয়াম (২য় পর্ব)



১ম পর্ব | ২য় পর্ব

১৩শ অধ্যায়
مكروهات الصوم
যেসব কারণে সওম মাকরূহ হয়ে যায়

প্রশ্ন ৫৪ : সওম মাকরূহ হওয়ার অর্থ কি?
উত্তর : মাকরূহ শব্দের অর্থ অপছন্দনীয়। আর সওমের মাকরূহ হল সিয়াম পালন অবস্থায় যেসব কাজ করা অপছন্দনীয়। এ জাতীয় কাজ সিয়াম ভঙ্গ করে না কিন্তু এসব চর্চা করা কখনো কখনো সিয়াম বিনষ্টের কাছাকাছি নিয়ে যায়। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।
প্রশ্ন ৫৫ : কী কী কারণে সিয়াম মাকরূহ হয়?
উত্তর : সিয়াম অবস্থায় নিম্ন বর্ণিত যে কোন কাজ করলে সিয়াম মাকরূহ হয়ে যায় :
(১) অযুর সময় গড়গড়া করে কুলি করা, জোড় দিয়ে নাকে পানি টানা। এতে গলা বা নাক দিয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
(২) বিনা প্রয়োজনে খাদ্যের স্বাদ দেখা। তবে প্রয়োজন হলে দেখতে পারে।
(৩) থুথু কফ মুখে জমিয়ে গিলে ফেলা। অল্প অল্প থুথু গিলে ফেললে কোন অসুবিধা নেই।
(৪) যৌন অনুভূতি নিয়ে স্ত্রীকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করা, বার বার তার দিকে তাকানো, বার বার সহবাসের কল্পনা করা। কারণ এসব কার্যক্রমে বীর্যপাত ঘটা বা সহবাসে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
প্রশ্ন ৫৬ : বিনা প্রয়োজনে যদি কোন মহিলা স্বীয় বাচ্চাকে রোযা অবস্থায় খাদ্য চিবিয়ে দেয় তবে তার হুকুম কী?
উত্তর : রোযা মাকরূহ হবে অর্থাৎ অন্য লোকে যদি খাদ্য চিবিয়ে দেয়ার মতো থাকে বা অন্য কোন উপায়ে যদি শিশুকে খাদ্য চিবিয়ে দেয়া যায়, তাহলে রোযাদার মহিলার জন্য চিবিয়ে দেয়া মাকরূহ হবে।
বি:দ্র:- প্রয়োজনবশত: চিবিয়ে দিলে তা মাকরূহ হবে না বরং চিবিয়ে দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে পেটে খাদ্যের কিছু অংশ চলে না যায়।

নিজ দেশের লোকদের সাথে রোযা রাখবে, না চাঁদ দেখা যে কোনো দেশের সাথে?

নিজ দেশের লোকদের সাথে রোযা রাখবে, না চাঁদ দেখা যে কোনো দেশের সাথে?



নিজ দেশের লোকদের সাথে রোযা রাখবে, না চাঁদ দেখা যে কোনো দেশের সাথে?

প্রশ্ন: যদি কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে চাঁদ দেখা যায়, আর  আমি যে দেশে বসবাস করি, সেখানে শাবান ও রমজান মাস ত্রিশ দিনে পুরো করা হয়, তাহলে আমি কী করব? রমজান প্রসঙ্গে মানুষের মতপার্থক্যের কারণ কী?

জবাব: আলহামদুলিল্লাহ, আপনার জন্য রোযা আপনার দেশের লোকদের সাথে থাকাই আবশ্যক। তারা যদি রোযা রাখে তাদের সাথে রোযা রাখবেন; আর তারা যদি রোযা না রাখে তবে আপনিও তাদের সাথে রোযা রাখবেন নাকারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ، وَالفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ، وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ»
‘‘তোমরা যেদিন রোযা রাখবে সেদিনই রোযা, যেদিন ইফতার করবে সেদিনই ইফতার, আর তোমরা যেদিন কোরবানি করবে সেদিনই কোরবানি।’’ [তিরমিযী : ৬৯৭]

মুমিনদের জন্য মাহে রমজানের হাদিয়া



ভূমিকা:
الحمد لله الذي شرع لعباده صيام شهر رمضان وجعله أحد أركان الإسلام، والصلاة والسلام على نبينا محمد أفضل من صلى وصام وعلى آله وأصحابه البررة الكرام، وبعد:
‍‌‌পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম জাতির প্রতি মহান আল্লাহর সীমাহীন অনুকম্পা ও অনুদানের অন্যতম। রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসকে ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌শাহরুন মুবারাকুন- বরকতময় মাস বলে অভিহিত করেছেন। এ মাসের রয়েছে বিশাল মর্যাদা ও ফজিলত। রয়েছে বিশেষ বিশেষ আমল। এ মাসকে কেন্দ্র করে মহান আল্লাহ প্রতিটি ঈমানদারের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উন্নতি ও কল্যাণ সাধনের সুযোগ অবারিত করে দিয়েছেন। সে দিকে লক্ষ্য করে আমরা কয়েকটি পাঠে বিভক্ত করে এ নিবন্ধটি সাজিয়েছি। প্রতিটি মুসলমান যাতে এ মাসের মহা মূল্যবান প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে প্রতিশ্রুত প্রতিদান অর্জনে উদ্যোগী হয়, চেষ্টা-শ্রমের সবটুকু নিংড়ে দেয়, সেভাবে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পাবে সে আশায় রমজানের ফজিলত ও মর্যাদার আলোচনাও যুক্ত করে দিয়েছি। প্রাসঙ্গিক ভাবনায় সিয়াম ও তারাবীহ সংক্রান্ত কিছু ফেকহি মাসলা-মাসায়েলও উল্লেখ করেছি। সব কিছুর মূলে রয়েছে আমার নিজেকে এবং অপরাপর সকল মুসলিম ভাইকে সচেতন করা। মহান আল্লাহ ও আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
হে আল্লাহ লেখক, পাঠক, শ্রোতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তুমি এর দ্বারা উপকৃত কর। যাবতীয় ভুল-ত্রুটি মার্জনা করে দাও। এবং সব দিক থেকে কবুল করে নাও।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.

রমজান বিষয়ক ফতোয়া

রমজান বিষয়ক ফতোয়া



রমজান বিষয়ক ফতোয়া

ফতোয়া (১)
সিয়াম কেন ফরজ হল ?

প্রশ্ন : কেন আল্লাহ তাআলা সিয়ামের বিধান দিলেন? সিয়াম ফরজ করার হিকমত বা উদ্দেশ্য কি?
জওয়াব : সিয়াম বা রোজা ফরজ করার বিভিন্ন কারণ রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি নিম্নে আলোচনা করা হল:
(১) তাকওয়া প্রতিষ্ঠা :
সিয়াম তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জনে সাহায্য করে। প্রবৃত্তগত চাহিদা পূরণ ও অশ্লীলতা থেকে দুরে রাখে। আমরা দেখতেই পাচ্ছি সিয়াম পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদাকে দমন করে। আর এ দুটো জিনিস মানুষকে সকল প্রকার খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায়। এ দুটো জিনিষের চাহিদা পূরণ করতে যেয়ে হারাম ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। অতএব এ দুটো জিনিষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তাকওয়া অর্জন করা যাবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿سورة البقرة:﴾
" হে ঈমানদারগণ তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হল যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।" সুরা বাকরা ১৮৩

বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩

যাদু, ভাগ্য গণনা ও দৈব কর্ম

যাদু, ভাগ্য গণনা ও দৈব কর্ম



এসব কিছুই শয়তানী কাজ-কর্ম এবং হারাম, যা আক্বীদায় ত্রুটি সৃষ্টি করে কিংবা আক্বীদা নষ্ট করে দেয়। কেননা শিরকী কাজ-কর্ম ছাড়া এগুলো অর্জন করা যায় না।

১. যাদু:

যাদু এমন এক বস্তুকে বলা হয় যার উপকরণ নিতান্ত গোপন ও সূক্ষ্ণ হয়ে থাকে। আর যাদুকে যাদু নামে এজন্য অভিহিত করা হয় যে, এটা এমন সব গোপনীয় কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয় যা দৃষ্টির আগোচরে থাকে। যাদুর মধ্যে মন্ত্র পাঠ, ঝাড়ফুঁক, বাণী উচ্চারণ, ঔষধপত্র ও ধূম্রজাল- এসব কিছুর সমাহার থাকে। যাদুর প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে। কোন যাদু মনের উপর আছর করে এবং কোনটা দেহের উপর। ফলে মানুষ কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো নিহতও হয় এবং এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা যায়। যাদুর এই আছর ও প্রতিক্রিয়া আল্লাহ তাআলার পার্থিব ও তাক্বদীরে নির্ধারিত হুকুম ও অনুমতি ক্রমেই হয়ে থাকে। আর এটা পুরোপুরি শয়তানী কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাদু -বিদ্যা আয়ত্ব করতে হলে শিরকের মাধ্যমে এবং অপবিত্র ও দুরাত্মাদের পছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভের আশ্রয় নিতে হয়। এজন্যই শরীয়তে শিরকের সাথে যাদুর উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
اجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ قَالُوْا وَمَاهِيَ؟ قَالَ الإشْرَاكُ بِاللهِ وَالسِّحْرِ....
'সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু থেকে বেঁচে থাক, সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন সে গুলো কি? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং যাদু.....'[১]

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩

চাঁদ উঠার বিভিন্ন উদয়স্থল সংক্রান্ত মতভেদ কি বিবেচনাযোগ্য? এ ব্যাপারে অমুসলিম দেশে মুসলিম কমিউনিটির অবস্থান

চাঁদ উঠার বিভিন্ন উদয়স্থল সংক্রান্ত মতভেদ কি বিবেচনাযোগ্য? এ ব্যাপারে অমুসলিম দেশে মুসলিম কমিউনিটির অবস্থান

ফাত্‌ওয়া নং -1248


চাঁদ উঠার বিভিন্ন উদয়স্থল সংক্রান্ত মতভেদ কি বিবেচনাযোগ্য? এ ব্যাপারে অমুসলিম দেশে মুসলিম কমিউনিটির অবস্থান

প্রশ্ন: আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু মুসলিম ছাত্র। প্রতি বছর রমযান মাসের শুরুতে আমাদের একটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যা মুসলিমদের তিনটি দলে ভাগ করে দেয় :
১. এক দল, তারা যে দেশে বাস করে সে দেশের চাঁদ দেখে সাওম রাখে।
২. এক দল, যারা সউদি আরবে সিয়াম শুরু হলে সাওম পালন করে।
৩. এক দল, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মুসলিম ছাত্র ইউনিয়নের খবর (নতুন চাঁদ দেখার) পৌঁছলে সাওম রাখে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখার দায়িত্ব পালন করে। তারা (সেই মুসলিম ছাত্র ইউনিয়ন) দেশের কোন স্থানে চাঁদ দেখলে বিভিন্ন সেন্টারসমূহে তা দেখার খবর পৌঁছে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত মুসলিমরা একই দিনে সাওম পালন করে যদিও এই শহরগুলো অনেক দূরে দূরে অবস্থিত।
এক্ষেত্রে সিয়াম পালন, চাঁদ দেখা ও এ সংক্রান্ত খবরের ব্যাপারে কারা বেশি অনুসরণ যোগ্য?
আমাদের এ ব্যাপারে দয়া করে ফাত্‌ওয়া দিন, আল্লাহ আপনাদেরকে পুরস্কৃত করুন, সাওয়াব দিন।

উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৩

সিয়াম, তারাবীহ ও যাকাত বিষয়ে কয়েকটি অধ্যায়

সিয়াম, তারাবীহ ও যাকাত বিষয়ে কয়েকটি অধ্যায়



ভূমিকা

সকল প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, আমরা তার প্রশংসা করি, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তার নিকট ইস্তেগফার করি এবং তার নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের কু-প্রবৃত্তি ও আমাদের আমলের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই তিনি যাকে হিদায়েত করেন তার কোন গোমরাহকারী নেই, তিনি যাকে গোমরাহ করেন তার কোন হিদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক তার কোন শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন তার উপর, তার পরিবারের উপর, তার সাথীদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত সঠিকভাবে যারা তাদের  অনুসরণ করবে তাদের সকলের উপর।
অতঃপর:
বরকতময় মাস রমযানের আগমন উপলক্ষে মুসলিম ভাইদের নিকট সিয়াম, তারাবীহ ও যাকাত বিষয়ে নিম্নের অধ্যায়গুলো পেশ করছি। আল্লাহ আমাদের এ আমলকে একমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন, তার শরীয়ত মোতাবেক বানিয়ে দিন ও মানব জাতির উপকারী করুন। তিনি দো‘আ কবুলকারী ও অনুগ্রহশীল।
প্রথম অধ্যায়: সিয়ামের হুকুম প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সিয়ামের হিকমত ও ফায়দা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সওম প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায়: সওম ভঙ্গের কারণ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: তারাবীহ প্রসঙ্গে।
ষষ্ট অধ্যায়: যাকাত ও তার উপকারিতা প্রসঙ্গে।
সপ্তম অধ্যায়: যাকাতের হকদার প্রসঙ্গে।
অষ্টম অধ্যায়: যাকাতুল ফিতর প্রসঙ্গে।

আকীদার মানদণ্ডে তাবীজ

আকীদার মানদণ্ডে তাবীজ



সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য এবং দরুদ ও সালাম রাসূলুল্লাহর সা. প্রতি।

তাবীজ সম্পর্কে হরেক রকমের বই পুস্তক বাজারে রয়েছে। ঐ সব বইয়ে তাবীযের স্বপক্ষে কোন সমর্থনযোগ্য বর্ণনা নেই, অথচ অনেক কিচ্ছা কাহিনীসহ অসংখ্য তাবীযের বর্ণনা ও ফাযায়েলে ভরপুর। এই সব বই পড়ে যে কোন মানুষ বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় তাবীজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়। তাবীযের ব্যবহার আজ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।