ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৪

ইসলামে হিজাবের বিধান আরোপের কারণ যৌন কামনা রোধ করা নয়

ইসলামে হিজাবের বিধান আরোপের কারণ যৌন কামনা রোধ করা নয়



 ইসলামে হিজাবের বিধান আরোপের কারণ যৌন কামনা রোধ করা নয়

প্রশ্ন: আপনাদের ধর্ম বা সংস্কৃতিতে নারীদের যে আবরণ পরতে হয় আমি সে ব্যাপারে জানতে আগ্রহী। এই পোশাক আমাদের খ্রিষ্টানদের কাছে সত্যিই খুব অসার মনে হয়। কারণ এটি এমন ইঙ্গিত করে যেন একজন নারী ভাবে সে এই পোশাক না পরলে প্রতিটা পুরুষ তাকে কামনা করবে। আরও ইঙ্গিত করে যে সৌন্দর্যের কারণে আপনার ধর্মের বা সংস্কৃতির অনুসারী কোন নারীর ক্ষেত্রে পুরুষদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। কারণ আপনি মনে করছেন যে আপনাকে কামনা করা হবে। কিন্তু কেউ সুন্দর হতেই পারে; তাই বলে প্রতিটা পুরুষ তাকে কামনা করবে এমন তো নয়। আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু আলোকপাত করতে পারেন? আমি আপনাকে সত্য করেই বলব আমি যখন এই পোশাক পরা কোন নারীকে দেখি আমার মনে হয়, “কত অসার তুমি?” উত্তরের জন্য আপনাকে আগেই ধন্যবাদ দিয়ে রাখছি।

উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

প্রথমেই আমরা আপনাকে আপনার অকপটতা, সুস্পষ্ট প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা আশা করি নিচে যে সামান্য কিছু কথা আমরা তুলে ধরব এর মাঝে আপনি আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন।

শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৪

রাসূল অবমাননার পরিণাম ও শাস্তি: আমাদের করণীয়

রাসূল অবমাননার পরিণাম ও শাস্তি: আমাদের করণীয়

إن الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد:
আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে রাসূল প্রেরণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ব মানবগোষ্ঠীর জন্য সর্বশেষ রাসূল। তিনি সকল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত নবী। আরবী, অনারবী, সাদা-কালো সবার জন্য তিনি নবী ও রাসূল। তিনি সকল নবী ও রাসূলেরও নেতা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿لَقَدۡ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذۡ بَعَثَ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلُ لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ ١٦٤ ﴾ [ال عمران: ١٦٤]
“অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের প্রতি একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা আলে ইমরান: ১৬৪] 
বর্তমানে বিভিন্নভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননা করা হচ্ছে, অথচ আমরা জানি না যে, এর পরিণাম কত ভয়াবহ। এ বিষয়ে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী। আলোচ্য প্রবন্ধে  রাসূলুল্লাহ সা. এর অবমাননার পরিণাম ও শাস্তি সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি

ইসলামের কিছু আলোচিত বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য বিভ্রান্তি



بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله و الصلاة و السلام على رسول الله و على آله و صحبه.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম শ্রেষ্ঠ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এবং শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি ।
অতঃপর:
আমার নিকট পাশ্চাত্য রাষ্ট্রসমূহের একটি ইসলামিক সেন্টার থেকে কতগুলো প্রশ্ন এসে পৌঁছলো, যেগুলোর পেছনে উস্কানি দিয়েছে “আল-আবা আল-বীদ” তথা ‘হোয়াইট ফাদার্স’ নামক কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান মিশনারি সংগঠন; আর যখন আমি এগুলোর ব্যাপারে জানতে পারলাম, তখন আমি সেগুলোর জওয়াব না দিয়ে পারলাম না।
আর প্রশ্নসমূহের ধরন-প্রকৃতি এবং যুবক ও অন্যান্যদের মাঝে ইসলামী দিক-নির্দেশনা যেভাবে চলছে সে প্রেক্ষাপটে উক্ত প্রশ্নমালার ছত্রে ছত্রে যা পাঠিত হচ্ছে তা বিবেচনা করে সে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া ব্যতীত আমার গত্যন্তর ছিল না। তাছাড়া এ প্রশ্নগুলো ও অনুরূপ কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পেছনে খৃষ্টান গির্জার যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। এগুলো মূলতঃ এমন কিছু ধারাবাহিক পর্ব যা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূর্ব থেকেই চলে আসছে তা ইতিহাসের প্রতিটি পাঠকই সহজে বুঝতে পারে। বিশেষ করে যারা খৃষ্টানদের বিভিন্ন আন্দোলন, তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সমন্বিতকরণ, সার্বিক পর্যায়ে তাদের আক্রমানাত্মক যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল।
অতঃপর আমি এই ব্যাপারে মহান আরশের মালিক দয়াময় আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি; আল্লাহর দীনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য, ইসলামের অনুসারীদের আত্মসম্মানের জন্য এবং আল্লাহ চায় তো ভাষা ও কলমের মাধ্যমে সংগ্রাম করার জন্য।
প্রশ্নসমূহে উপস্থাপিত ইস্যুগুলো নিম্নোক্ত প্রধান শিরোনাম অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা যায়:
—      সাম্য বা সমানাধিকার;
—      স্বাধীনতা (ধর্মীয় স্বাধীনতা — দাসপ্রথা);
—      নারী;
—      শরী‘আত বাস্তবায়ন;
—      জিহাদ।

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৩

অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা

অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা




অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলামের উদারতা

একটি মুসলিম দেশে ইসলাম মুসলিমকে শুধু অমুসলিমদের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতেই বলে না, রাষ্ট্রে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুখ-সমৃদ্ধিও নিশ্চিত করে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহয় একাধিক স্থানে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। অমুসলিমরা নিজ নিজ উপাসনালয়ে উপাসনা করবেন। নিজ ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মালয়কে সুরক্ষিত রাখবেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা সমান। তাদের প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য ইসলাম বরদাশত করে না। যেসব অমুসলিমের সঙ্গে কোনো সংঘাত নেই, যারা শান্তিপূর্ণভাবে মুসলিমদের সঙ্গে বসবাস করেন তাদের প্রতি বৈষম্য দেখানো নয়; ইনসাফ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ ٨ ﴾ [الممتحنة: ٨] 

‘আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। {সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত : ৮}

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৩

ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের ২০টি বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাব

ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের ২০টি বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাব


ভূমিকা
মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান একটি অর্পিত দায়িত্ব।
মুসলিম জাতির সচেতন অংশ খুব ভালো করেই জানেন যেইসলাম একটি বিশ্বজনীন জীবন ব্যবস্থাযা গোটা মানব জাতির জন্য দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সমগ্র সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা বিধাতা প্রতিপালক এবং তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পিত মানুষঅর্থাৎ মুসলিম-তাদেরকে বাছাই করে নির্বাচন করা হয়েছেমানব জাতির প্রতিটি সদস্যের কাছে তাঁর বাণী যথাযথভাবে পৌঁছে দেবার দায়িত্বশীল করে।
কিন্তু হায়! অধিকাংশ মুসলিম তার সে দায়িত্বের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। যেখানে আমাদের নিজেদের স্বার্থে জীবন যাপনের শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতি হিসেবে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করাই ছিল একমাত্র কাজ। সেখানে আমাদের বাস্তবতা আজ এই যেএতটুকু ইচ্ছাও কারো মধ্যে অনুভুত হয়না যেযাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বাণী পৌঁছেনি তাদেরকে এই পরম সত্যের অংশীদার করে নেই।
আরবী শব্দ দাওয়াহর অর্থ আহবান বা আমন্ত্রণ। ইসলামী পরিভাষায় এর তাৎপর্য-ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালানো। জ্যোতীর্ময় কুরআন বলছেঃ
তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারেযে প্রকাশ করেনা (এমন) উদ্ভাসিত সত্যকেআল্লাহর তরফ থেকে যা তাদের কাছে দেয়া আছেএই যা কিছু তারা করছে এ ব্যাপারে আল্লাহ আদৌ উদাসীন নন। (২‍:১৪০)