কবীরা গুনাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবীরা গুনাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪

যৌতুক : এক অভিশপ্ত সামাজিক ব্যাধি, বহু কবীরা গুনাহর সমষ্টি

যৌতুক : এক অভিশপ্ত সামাজিক ব্যাধি, বহু কবীরা গুনাহর সমষ্টি




আমাদের সমাজে যৌতুক গ্রহণের অপর কারণটি হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি ভয়হীনতা এবং শরীয়তের বিধানের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতা। নারীর মর্যাদা দান ও নারীর আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম যে বিধিবিধান দিয়েছে তার প্রতি সাধারণ পর্যায়ের সম্মানবোধ থাকলে কোনো বরের পরিবারের পক্ষেই যৌতুক গ্রহণের কোনো উদ্যোগ থাকার কথা ছিল না। অথচ যৌতুক গ্রহণের সঙ্গে এ সম্মানবোধের কোনো সম্পর্ক নেই। বিশেষত যৌতুকের নামে ‘দেনা-পাওনা ধার্য করা এবং তা উসূল করার নির্মম পর্যায়গুলোতে ন্যূনতম স্তরের মানুষির কোনো আলামত দৃশ্যত থাকে না। এটা শরীয়তের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। তাই অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে এটা সম্ভব হওয়ার কথা নয়।

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯

যাদুটোনা থেকে নিরাময়ের উপায়

যাদুটোনা থেকে নিরাময়ের উপায়



যাদুটোনা থেকে নিরাময়ের উপায়

প্রশ্ন: যিনি বিদ্বেষন, বশীকরণ বা অন্য কোন যাদুটোনা দ্বারা আক্রান্ত তার চিকিৎসার উপায় কি? মুমিন ব্যক্তি যাদুটোনা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারেন অথবা কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে যাদুটোনা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কুরআন ও হাদিসে এ সম্পর্কিত কোন দুআ-দরুদ বা যিকির-আযকার আছে কি?

উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যাদুটোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে: 

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; সমস্যা



আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; সমস্যা
আমার জীবনের প্রথম বন্ধু আবদুল মালেকঅবুঝ বয়সে ও আর আমি একসঙ্গে মাদরাসায় যেতাম। আমার আর ওর বাড়ি থেকে খাবার আনত ওর বড় ভাই। আমি যখন দুনিয়ার ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতাম না, তখন ও অনেক কিছুই বুঝত। ও প্রায়ই মাদরাসা পালিয়ে বাড়িতে যেত। পড়াশুনার বাইরের জগতের প্রতিই ওর ছিল যত আগ্রহ। বছর পার না হতেই সে মাদরাসায় না পড়ার জন্য নানা বাহানা খুঁজতে লাগল। অবশ্য ওর বাবা ওকে মাদরাসায় পড়ানোর জন্য চেষ্টায় কসুর করেন নি। একদিন সে সত্যিই মাদরাসাকে বিদায় জানাল।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

অহংকার থেকে মুক্তির উপায়

অহংকার থেকে মুক্তির উপায়



প্রশ্ন: কিভাবে একজন মানুষ অহংকার থেকে মুক্তি পেতে পারে?

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

অহংকার একটি খারাপ গুণ। এটি ইবলিস ও দুনিয়ায় তার সৈনিকদের বৈশিষ্ট্য; আল্লাহ যাদের অন্তর আলোহীন করে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬

বই – যাদু ও তার প্রতিকার (ফ্রি ডাউনলোড)

বই – যাদু ও তার প্রতিকার (ফ্রি ডাউনলোড)


যাদু ও তার প্রতিকার বিষয়ক বাংলা ভাষায় একমাত্র বই
‘যাদুকর ও জ্যোতিষীর গলায় ধারালো তরবারি’


বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

নাম: ‘যাদুকর ও জ্যোতিষীর গলায় ধারালো তরবারি’
লেখক: শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী
অনুবাদক: শাইখ আব্দুর রব আফফান
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।
প্রকাশক: বাইতুস সালাম, রিয়াদ, সউদী আরব।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২

বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬

গুরুতর অপরাধ মানুষ হত্যা

গুরুতর অপরাধ মানুষ হত্যা

অশান্তির আগুনে ঘেরা পৃথিবী। দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ভরা অবনী। এ পৃথিবীতে এখন মানবজীবনের চেয়ে সস্তা কিছু নেই। বিশেষত বাংলাদেশের মতো তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোয় মাত্র ১০ টাকার জন্যও মানুষ খুন হচ্ছে। মিডিয়ায় কান পাতলে কিংবা সংবাদপত্রের পাতায় চোখ রাখলেই নিহতের স্বজনের আহাজারী আর মাতমের দৃশ্য থাকবেই। সন্তানের হাতে জন্মদাতা কিংবা জন্মদাতার হাতে সন্তান, স্বামীর হাতে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীর হাতে স্বামী, শিক্ষকের হাতে ছাত্র কিংবা ছাত্রের হাতে শিক্ষক, কর্মচারীর হাতে মালিক কিংবা মালিকের হাতে কর্মচারী, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ নাগরিক কিংবা নাগরিকের হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খুন- কোনোটাই যেন এখন আর অস্বাভাবিক নয়!

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০১৫

জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে যে সব কাজ

জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে যে সব কাজ



জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে যে সব কাজ

১. ঈমান না আনা 
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا مُؤْمِنٌ
“ঈমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)

সোমবার, ১৯ মে, ২০১৪

ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরী করার বিধান

ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরী করার বিধান



ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরী করার বিধান

আমাদের দেশে ইনস্যুরেন্স বা বীমা কোম্পানিগুলো অধিকাংশই বাণিজ্যিক, যা সবই প্রতারণা ও সুদ নির্ভর। তাই এ সকল কোম্পানিতে চাকুরী করা বা তাতে অর্থ লগ্নি করা হারাম।
আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (ওআইসির একটি শাখা সংস্থা) এবং সউদী আরবের উচ্চ উলামা পরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সব ধরণের বাণিজ্যিক বীমা হারাম। চাই তা জীবন বীমা হোক বা সম্পদের বীমা হোক।

তার কারণ সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হল:

মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩

ব্যভিচার

ব্যভিচা

   

ব্যভিচার

আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”। (সূরা বনী ইসরাঈল -৩২)

“আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভাল কর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল”। (সূরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)

“ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। (সূরা আন নূর ২)

নামীমা বা চোগলখুরি

নামীমা বা চোগলখুরি

   

নামীমা বা চোগলখুরি

একজনের কথা-ঝগড়া বিবাদ, মনোমালিন্যের উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে লাগানোই ইসলামের পরিভাষায় নামীমা বা চোগলখুরি বলে। সকল ইসলামী চিন্তাবীদ এ সম্পর্কে একমত পোষণ করেন যে, চোগলখুরি সম্পুর্ণ হারাম।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, 
“সে ব্যক্তির অনুসরণ করো না, যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, যে অসাক্ষাতে নিন্দা করে, যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগায়।” [সুরা আল কালাম ১০ -১১]

রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন ,
“চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” [বুখারি,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিযি]

রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৩

কুরআন-হাদিসের আলোকে সুদের ক্ষতি-অপকার-কুপ্রভাব

কুরআন-হাদিসের আলোকে সুদের ক্ষতি-অপকার-কুপ্রভাব


সুদের ক্ষতি-অপকার-কুপ্রভাব

ভূমিকা

এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুদ, সুদের অপকারিতা ও তার ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে বেশি বেশি আলোচনা হওয়া দরকার। কারণ যে সুদী কারবার করে সে আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করে। আর কোনো মুসলমান এমনটি কল্পনাও করতে পারে না। তাই এ থেকে দূরে থাকতে প্রতিটি মুসলমানের জন্য সুদের বিধান ও তার প্রকার-প্রকরণ জানা অপরিহার্য।

এ গুরুত্ব বিবেচনা করেই আমি নিজের এবং আমার মতো জ্ঞানের দৈন্যতায় ভোগা মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য সুদের বিধানাবলির ওপর কুরআন-হাদিসের দলিলাদি একত্রিত করেছি। বর্ণনা করেছি ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর কুপ্রভাবের দিকগুলোও।

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : নিফাক

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : নিফাক



ভূমিকা
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। আর সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদের উপর এবং তার পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবীগণের উপর।
মুনাফেকি বা কপটতা হল এমন একটি কঠিন ব্যাধি, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক ক্ষতিকর। মুনাফেকি বা কপটতা মানুষের অন্তরের জন্য এত ক্ষতিকর যে, তা মানুষের অন্তরকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়, যার ফলে একজন মানুষ দুনিয়াতে ঈমান হারা হয় এবং দুনিয়া থেকে তাকে বেঈমান হয়ে চির বিদায় নিতে হয় মানুষের অন্তর নষ্ট করার জন্য মুনাফেকি বা কপটতার চেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর আর কোন কিছুই হতে পারে না। একজন মানুষ কখনই মুনাফেকি বা কপটতাকে পছন্দ করে না। কিন্তু তারপরও তাকে তার অজান্তে মুনাফেকি বা কপটতাতে আক্রান্ত হতে হয়। বিশেষ করে নিফাকে আমলী বা ছোট নিফাক এর অর্থ এ নয় যে, মানুষ মুনাফেকি বা কপটতাকে প্রতিহত করতে অক্ষম বা মুনাফেকি বা কপটতা হতে বেঁচে থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব। যারা মুনাফেকিকে হালকা করে দেখে বা নিফাক হতে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা কম করে তারাই মুনাফেকিতে আক্রান্ত হয়। নিফাক মানুষের যাবতীয় ভাল ও প্রশংসনীয় গুণকে ছিনিয়ে নেয় ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত করে। কুরআনে করীমে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অবস্থা তাদের গুণ ও তাদের তৎপরতা তুলে ধরে একটি সূরা নাযিল করেন। আমরা এ কিতাবে নিফাকের সংজ্ঞা, প্রকার, মুনাফিকদের চরিত্র ও নিফাক থেকে বাঁচার উপায়গুলো সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করব। যারা এ কিতাব লিখতে আমাদের সহযোগিতা করবে এবং মানুষের মধ্যে তা প্রকাশে অংশ গ্রহণ করবে আমরা তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد.

সোমবার, ২৭ মে, ২০১৩

অন্তর বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : অহংকার

অন্তর বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : অহংকার



অন্তর বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : অহংকার

ভূমিকা
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.
যাবতীয় প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তা‘আলার যিনি সমগ্র জগতের মালিক ও প্রতিপালক। আর সালাত ও সালাম নাযিল হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর উপর, যিনি সমস্ত নবীগণের সরদার ও সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। আরও নাযিল হোক তার পরিবার, পরিজন ও সমগ্র সাথী সঙ্গীদের উপর।
মনে রাখতে হবে, অহংকার ও বড়াই মানবাত্মার জন্য খুবই ক্ষতিকর ও মারাত্মক ব্যাধি, যা একজন মানুষের নৈতিক চরিত্রকে শুধু কলুষিতই করে না বরং তা একজন মানুষকে হেদায়াত ও সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে ভ্রষ্টতা ও গোমরাহির পথের দিকে নিয়ে যায়। যখন কোন মানুষের অন্তরে অহংকার ও বড়াইর অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তা তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও ইরাদার উপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তাকে নানাবিধ প্রলোভন ও প্ররোচনার মাধ্যমে খুব শক্ত হস্তে টেনে নিয়ে যায় ও বাধ্য করে সত্যকে অস্বীকার ও বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করতে। আর একজন অংহকারী সবসময় চেষ্টা করে হকের নিদর্শনসমূহকে মিটিয়ে দিতে। অত:পর তার নিকট সজ্জিত ও সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়ে ওঠে কিছু বাতিল, ভ্রান্ত, ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি যার কোন বাস্তবতা নাই। ফলে সে এ সবেরই অনুকরণ করতে থাকে এবং গোমরাহিতে নিপতিত থাকে। এ সবের সাথে আরও যোগ হবে, মানুষ সে যত বড়ই হোক না কেন, তাকে সে নিকৃষ্ট মনে করবে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাকে অপমান করবে।
এ পুস্তিকায় অহংকার কাকে বলে তা বর্ণনা করা হয়েছে এবং অহংকার ও বড়াইর মধ্যে পার্থক্য কি তা আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ পুস্তিকায় থাকছে অহংকারের ক্ষতি, নিদর্শন, কারণ ও মানব জীবনে তার প্রভাব কি তার একটি সার-সংক্ষেপ। সবশেষে অহংকারের চিকিৎসা কি তা আলোচনা করে রিসালাটির সমাপ্তি টানা হয়েছে।
এ পুস্তিকাটি তৈরি করা ও এটিকে একটি সন্তোষজনক অবস্থানে দাঁড় করাতে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি কখনোই ভুলবো না।  
আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের স্থায়ী ও চিরন্তন কল্যাণ দান করুন। আমাদের ক্ষমা করুন। আমীন।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
—    মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩

একশটি কবীরা গুনাহ

একশটি কবীরা গুনাহ



কবীরা গুনাহ কাকে বলে?

কবীরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্ম সমূহকে যেগুলোতে নিন্মোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যাবে:
যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামে শরীয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।
যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন।
যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মণ্ডলী লানত দেন।
যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে এমনটি করবে সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।
কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
যে কাজে দ্বীন নাই, ঈমান নাই ইত্যাদি বলা হয়েছে।
যে ব্যাপারে বলা হয়েছে ্‌এটি মুনাফিকের আলামত বা মুনাফিকের কাজ।
অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালা সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা


১. মহান আল্লাহ বলেন:
إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
“যেগুলো স¤পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের (ছাট) গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা: ৩১)

২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
الصلوات الخمس . والجمعة إلى الجمعة . ورمضان إلى رمضان . مكفرات ما بينهن إذا اجتنب الكبائر
 “পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআ থেকে আরেক জুমআ এবং এক রামাযান থেকে আরেক রামাযান এতদুভয়ের মাঝে সংঘটিত সমস্ত পাপরাশীর জন্য কাফফারা স্বরূপ যায় যদি কবীরা গুনাহ সমূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।” (মুসলিম)

বুধবার, ৮ মে, ২০১৩

কবীরা গুনাহ

কবীরা গুনাহ


 সূচীপত্র


ক্রম শিরোনাম

ভূমিকা

কবীরা গুনাহ কী?

১ নং কবীরা গুনাহ:  আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা’

২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষ হত্যা করা

৩ নং কবীরা গুনাহ: যাদু

৪ নং কবীরা গুনাহ: সালাত ত্যাগ করা

৫ নং কবীরা গুনাহ: যাকাত আদায় না করা

৬ নং কবীরা গুনাহ: সঙ্গত কারণ ছাড়া রমযানের সাওম ভঙ্গ করা বা না রাখা

৭ নং কবীরা গুনাহ: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করা

১০ ৮ নং কবীরা গুনাহ: মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া

১১ ৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং নিকট আত্মীয়দের পরিত্যাগ করা

১২ ১০ নং কবীরা গুনাহ: ব্যভিচার করা

১৩ ১১ নং কবীরা গুনাহ: পুং মৈথুন এবং স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করা

১৪ ১২ নং কবীরা গুনাহ: সুদ খাওয়া

১৫ ১৩ নং কবীরা গুনাহ: ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা

১৬ ১৪ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপ করা

১৭ ১৫ নং কবীরা গুনাহ: যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

১৮ ১৬ নং কবীরা গুনাহ: শাসক ব্যক্তি কর্তৃক প্রজাদেরকে ধোকা দেওয়া এবং তাদের ওপর অত্যাচার করা

১৯ ১৭ নং কবীরা গুনাহ: গর্ব, অহংকার, আত্মম্ভরিতা, হট-ধর্মিতা

২০ ১৮ নং কবীরা গুনাহ:  মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া’

২১ ১৯ নং কবীরা গুনাহ: মাদক দ্রব্য সেবন করা

২২ ২০ নং কবীরা গুনাহ: জুয়া খেলা

২৩ ২১ নং কবীরা গুনাহ: সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া

২৪ ২২ নং কবীরা গুনাহ: গনীমতের মাল আত্মসাৎ করা

২৫ ২৩ নং কবীরা গুনাহ: চুরি করা

২৬ ২৪ নং কবীরা গুনাহ: ডাকাতি করা

২৭ ২৫ নং কবীরা গুনাহ: মিথ্যা শপথ

২৮ ২৬ নং কবীরা গুনাহ: যুলুম, অত্যাচারা করা

২৯ ২৭ নং কবীরা গুনাহ: চাঁদাবাজী ও অন্যায় টোল আদায়

৩০ ২৮ নং কবীরা গুনাহ: হারাম খাওয়া, তা যে কোনো উপায়ে হোক না কেন

৩১ ২৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মাহত্যা করা

৩২ ৩০ নং কবীরা গুনাহ: অধিকাংশ সময় মিথ্যা বলা

৩৩ ৩১ নং কবীরা গুনাহ: মানব রচিত বিধানে দেশ পরিচালনা ও বিচার ফয়সালা করা

৩৪ ৩২ নং কবীরা গুনাহ: বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করা

৩৫ ৩৩ নং কবীরা গুনাহ: মহিলা পুরুষের বেশ ধারণ করা এবং পুরুষের মহিলার বেশ ধারণ করা

৩৬ ৩৪ নং কবীরা গুনাহ: আপন স্ত্রীকে ব্যভিচারে সুযোগ দেওয়া

৩৭ ৩৫ নং কবীরা গুনাহ: হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয় উভয়ে গুনাহগার

৩৮ ৩৬ নং কবীরা গুনাহ: পেশাব থেকে বেঁচে না থাকা

৩৯ ৩৭ নং কবীরা গুনাহ: চতুষ্পদ জন্তুর চেহারা বিকৃতি করা

৪০ ৩৮ নং কবীরা গুনাহ: দুনিয়া অর্জনের লক্ষ্যে ইলমে দীন শিক্ষা করা এবং সত্যেকে গোপন করা

৪১ ৩৯ নং কবীরা গুনাহ: খিয়ানত করা

৪২ ৪০ নং কবীরা গুনাহ:  খোটা দেওয়া

৪৩ ৪১ নং কবীরা গুনাহ: তাকদীরকে অস্বীকার করা

৪৪ ৪২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষের নিকট অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করা

৪৫ ৪৩ নং কবীরা গুনাহ: পরনিন্দা করা

৪৬ ৪৪ নং কবীরা গুনাহ: অভিশাপ করা

৪৭ ৪৫ নং কবীরা গুনাহ: গাদ্দারী করা, ওয়াদা পালন না করা

৪৮ ৪৬ নং কবীরা গুনাহ: গণক ও জ্যোতির্বিদদের বিশ্বাস করা

৪৯ ৪৭ নং কবীরা গুনাহ: স্বামীর অবাধ্য হওয়া

৫০ ৪৮ নং কবীরা গুনাহ: কাপড় , দেওয়াল ও পাথর ইত্যাদিতে প্রাণীর ছবি আঁকা

৫১ ৪৯ নং কবীরা গুনাহ: শোক প্রকাশার্থে চেহারার উপর আঘাত করা, মাতম করা, কাপড় ছেড়া, মাথা মুণ্ডানো বা চুল উঠানো, বিপদের সময় ধ্বংসের জন্য দো‘আ করা

৫২ ৫০ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা

৫৩ ৫১ নং কবীরা গুনাহ:  দুর্বল, চাকর-চাকরানী, স্ত্রী ও চতুষ্পদ জন্তুর ওপর অত্যাচার করা

৫৪ ৫২ নং কবীরা গুনাহ: প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া

৫৫ ৫৩ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া ও গালি দেওয়া

৫৬ ৫৪ নং কবীরা গুনাহ: অহংকার করে লুঙ্গি কাপড় ইত্যাদি ঝুলিয়ে পরিধান করা

৫৭ ৫৫ নং কবীরা গুনাহ: স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করা

৫৮ ৫৬ নং কবীরা গুনাহ: পুরুষের স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পরিধান করা

৫৯ ৫৭ নং কবীরা গুনাহ: গোলামের পলায়ন করা

৬০ ৫৮ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশে পশু যবেহ করা

৬১ ৫৯ নং কবীরা গুনাহ: জেনে শুনে অন্যকে পিতা বলে স্বীকৃতি দেওয়া

৬২ ৬০ নং কবীরা গুনাহ: তর্ক-বির্তক, ঝগড়া এবং শত্রুতা পোষণ করা

৬৩ ৬১ নং কবীরা গুনাহ: প্রয়োজনের অতিক্তি পানি দান করতে অস্বীকার করা

৬৪ ৬২ নং কবীরা গুনাহ: ওজনে ও মাপে কম দেওয়া

৬৫ ৬৩ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিত হওয়া

৬৬ ৬৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত জন্তু, প্রবহিত রক্ত এবং শুকরের গোশত খাওয়া

৬৭ ৬৫ নং কবীরা গুনাহ: জুমু‘আর সালাত ও জামা‘আত চেড়ে দিয়ে বিনা কারণে একা একা সালাত আদায় করা

৬৮ ৬৬ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া

৬৯ ৬৭ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা

৭০ ৬৮ নং কবীরা গুনাহ: ষড়যন্ত্র করা এবং ধোক দেওয়া

৭১ ৬৯ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের ত্রুটি-বিচ্যুতি তালাশ করা এবং তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ করা

৭২ ৭০ নং কবীরা গুনাহ:  কোনো সাহাবীকে গালি দেওয়া

৭৩ ৭১ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায় বিচার

৭৪ ৭২ নং কবীরা গুনাহ: ঝগড়া করার সময় অতিরিক্ত গালি দেওয়া

৭৫ ৭৩ নং কবীরা গুনাহ: কোনো বংশ বা তার লোকদের খারাপ গুণে অভিহিত করা

৭৬ ৭৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত ব্যক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক ও উচ্চ শব্দে কান্নাকাটি করা

৭৭ ৭৫ নং কবীরা গুনাহ: যমীনের সীমানা উঠিয়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা

৭৮ ৭৬ নং কবীরা গুনাহ: অপসংস্কৃতি ও কু-প্রথার প্রচলন করা অথবা বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করা

৭৯ ৭৭ নং কবীরা গুনাহ: নারী অন্যের চুল ব্যবহার করা, শরীরে উলকি আকা, ভ্রু উপড়ানো, দাত ফাক করা

৮০ ৭৮ নং কবীরা গুনাহ: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কারো দিকে ইশারা করা

৮১ ৭৯ নং কবীরা গুনাহ: হারাম শরীফে ধর্মদ্রোহী কাজ করা

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৩

গীবত একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্‌

গীবত একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্‌



গীবত একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্‌

মানুষ সামাজিক জীবসমাজবদ্ধ জীবনযাপন ছাড়া একাকী জীবন যাপন করা মানুষের পক্ষে সহজ নয়, তেমনটি কেউ কামনাও করে না। আবার পরিচিত সমাজের বাইরেও মানুষের পক্ষে চলা খুবই কঠিনপৃথিবীর সমাজবদ্ধ কোনো মানুষই সামাজিক বিপর্যয় কামনা করতে পারেন নামানুষ সব সময় সুখ ও শান্তি চায়শান্তি মানুষের একটি আরাধ্য বিষয়কিন্তু এই প্রত্যাশিত সুখ-শান্তি নির্ভর করে সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরউঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র­ এসব পার্থক্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেনমানুষের পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতে এরশাদ করেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴿13﴾
হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছিযাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারতোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ননিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা হুজুরাত: ১৩)
সুতরাং মানব সমাজের এই পার্থক্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার নিমিত্তেইযেসব কারণে সমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয়, সমাজ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়, সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গীবত, যা মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণীতে পরিণত করেতাই তো মহান আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে এই নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছেনএ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে বলেন,
وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ
আর তোমরা কেউ কারো গীবত করো না, তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে ? একে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে, (সূরা হুজুরাত:১২)
সুস্থ, স্বাধীন কোনো বিবেকবান মানুষই জ্ঞান অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত মৃত মানুষ তো দূরের কথা, যে পশু জীবিত থাকলে হালাল সেই পশু মৃত হলে তার গোশতও ভক্ষণ করবে নাঅথচ মানুষ সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে গীবতের মতো জঘন্য ফেতনায় নিমজ্জিত হয়

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৩

সুদের ভয়ানক পরিণতি

সুদের ভয়ানক পরিণতি



সুদের ভয়ানক পরিণতি

وَأَحَلَّ اللَّـهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا 
"আল্লা’হ ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)

বর্তমানে সুদ আমাদের দেশ ও জাতিকে অক্টোপাসের মত বেঁধে ফেলেছে। সুদ ছাড়া আমাদের অর্থনীতির চাকা যেন বন্ধ। যার কারণে পত্রিকা ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মানুষকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট অংকের লাভের বিনিময়ে অর্থ ডিপোজিট করতে আহবান করা হচ্ছে। বিভ্রান্ত ও সৎ পথ থেকে বিচ্যুত কিছু আলেমের ফতোয়াও প্রচার করা হচ্ছে এই মর্মে যে, সুদী ব্যাংকের সাথে লেন্তদেন করা জায়েয এবং নির্দিষ্ট অংকে ইন্টারেস্ট বা সুদ গ্রহণ করাও জায়েয।
কিন্তু এ বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। প্রকাশ্যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিরোধিতা ও তাঁদের প্রকাশ্য নাফরমানী। 
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন:
فَلْيَحْذَرْ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“যারা তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়ে যায় যে, তারা ফেতনায় পতিত হবে অথবা তারা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সম্মুখিন হবে। (সূরা নূর- ৩৬)

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৩

বই – কবীরা গুনাহ (ফ্রি ডাউনলোড)

বই – কবীরা গুনাহ (ফ্রি ডাউনলোড)


 সূচীপত্র


ক্রম শিরোনাম

ভূমিকা

কবীরা গুনাহ কী?

১ নং কবীরা গুনাহ:  আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা’

২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষ হত্যা করা

৩ নং কবীরা গুনাহ: যাদু

৪ নং কবীরা গুনাহ: সালাত ত্যাগ করা

৫ নং কবীরা গুনাহ: যাকাত আদায় না করা

৬ নং কবীরা গুনাহ: সঙ্গত কারণ ছাড়া রমযানের সাওম ভঙ্গ করা বা না রাখা

৭ নং কবীরা গুনাহ: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করা

১০ ৮ নং কবীরা গুনাহ: মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া

১১ ৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং নিকট আত্মীয়দের পরিত্যাগ করা

১২ ১০ নং কবীরা গুনাহ: ব্যভিচার করা

১৩ ১১ নং কবীরা গুনাহ: পুং মৈথুন এবং স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করা

১৪ ১২ নং কবীরা গুনাহ: সুদ খাওয়া

১৫ ১৩ নং কবীরা গুনাহ: ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা

১৬ ১৪ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপ করা

১৭ ১৫ নং কবীরা গুনাহ: যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

১৮ ১৬ নং কবীরা গুনাহ: শাসক ব্যক্তি কর্তৃক প্রজাদেরকে ধোকা দেওয়া এবং তাদের ওপর অত্যাচার করা

১৯ ১৭ নং কবীরা গুনাহ: গর্ব, অহংকার, আত্মম্ভরিতা, হট-ধর্মিতা

২০ ১৮ নং কবীরা গুনাহ:  মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া’

২১ ১৯ নং কবীরা গুনাহ: মাদক দ্রব্য সেবন করা

২২ ২০ নং কবীরা গুনাহ: জুয়া খেলা

২৩ ২১ নং কবীরা গুনাহ: সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া

২৪ ২২ নং কবীরা গুনাহ: গনীমতের মাল আত্মসাৎ করা

২৫ ২৩ নং কবীরা গুনাহ: চুরি করা

২৬ ২৪ নং কবীরা গুনাহ: ডাকাতি করা

২৭ ২৫ নং কবীরা গুনাহ: মিথ্যা শপথ

২৮ ২৬ নং কবীরা গুনাহ: যুলুম, অত্যাচারা করা

২৯ ২৭ নং কবীরা গুনাহ: চাঁদাবাজী ও অন্যায় টোল আদায়

৩০ ২৮ নং কবীরা গুনাহ: হারাম খাওয়া, তা যে কোনো উপায়ে হোক না কেন

৩১ ২৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মাহত্যা করা

৩২ ৩০ নং কবীরা গুনাহ: অধিকাংশ সময় মিথ্যা বলা

৩৩ ৩১ নং কবীরা গুনাহ: মানব রচিত বিধানে দেশ পরিচালনা ও বিচার ফয়সালা করা

৩৪ ৩২ নং কবীরা গুনাহ: বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করা

৩৫ ৩৩ নং কবীরা গুনাহ: মহিলা পুরুষের বেশ ধারণ করা এবং পুরুষের মহিলার বেশ ধারণ করা

৩৬ ৩৪ নং কবীরা গুনাহ: আপন স্ত্রীকে ব্যভিচারে সুযোগ দেওয়া

৩৭ ৩৫ নং কবীরা গুনাহ: হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয় উভয়ে গুনাহগার

৩৮ ৩৬ নং কবীরা গুনাহ: পেশাব থেকে বেঁচে না থাকা

৩৯ ৩৭ নং কবীরা গুনাহ: চতুষ্পদ জন্তুর চেহারা বিকৃতি করা

৪০ ৩৮ নং কবীরা গুনাহ: দুনিয়া অর্জনের লক্ষ্যে ইলমে দীন শিক্ষা করা এবং সত্যেকে গোপন করা

৪১ ৩৯ নং কবীরা গুনাহ: খিয়ানত করা

৪২ ৪০ নং কবীরা গুনাহ:  খোটা দেওয়া

৪৩ ৪১ নং কবীরা গুনাহ: তাকদীরকে অস্বীকার করা

৪৪ ৪২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষের নিকট অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করা

৪৫ ৪৩ নং কবীরা গুনাহ: পরনিন্দা করা

৪৬ ৪৪ নং কবীরা গুনাহ: অভিশাপ করা

৪৭ ৪৫ নং কবীরা গুনাহ: গাদ্দারী করা, ওয়াদা পালন না করা

৪৮ ৪৬ নং কবীরা গুনাহ: গণক ও জ্যোতির্বিদদের বিশ্বাস করা

৪৯ ৪৭ নং কবীরা গুনাহ: স্বামীর অবাধ্য হওয়া

৫০ ৪৮ নং কবীরা গুনাহ: কাপড় , দেওয়াল ও পাথর ইত্যাদিতে প্রাণীর ছবি আঁকা

৫১ ৪৯ নং কবীরা গুনাহ: শোক প্রকাশার্থে চেহারার উপর আঘাত করা, মাতম করা, কাপড় ছেড়া, মাথা মুণ্ডানো বা চুল উঠানো, বিপদের সময় ধ্বংসের জন্য দো‘আ করা

৫২ ৫০ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা

৫৩ ৫১ নং কবীরা গুনাহ:  দুর্বল, চাকর-চাকরানী, স্ত্রী ও চতুষ্পদ জন্তুর ওপর অত্যাচার করা

৫৪ ৫২ নং কবীরা গুনাহ: প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া

৫৫ ৫৩ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া ও গালি দেওয়া

৫৬ ৫৪ নং কবীরা গুনাহ: অহংকার করে লুঙ্গি কাপড় ইত্যাদি ঝুলিয়ে পরিধান করা

৫৭ ৫৫ নং কবীরা গুনাহ: স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করা

৫৮ ৫৬ নং কবীরা গুনাহ: পুরুষের স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পরিধান করা

৫৯ ৫৭ নং কবীরা গুনাহ: গোলামের পলায়ন করা

৬০ ৫৮ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশে পশু যবেহ করা

৬১ ৫৯ নং কবীরা গুনাহ: জেনে শুনে অন্যকে পিতা বলে স্বীকৃতি দেওয়া

৬২ ৬০ নং কবীরা গুনাহ: তর্ক-বির্তক, ঝগড়া এবং শত্রুতা পোষণ করা

৬৩ ৬১ নং কবীরা গুনাহ: প্রয়োজনের অতিক্তি পানি দান করতে অস্বীকার করা

৬৪ ৬২ নং কবীরা গুনাহ: ওজনে ও মাপে কম দেওয়া

৬৫ ৬৩ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিত হওয়া

৬৬ ৬৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত জন্তু, প্রবহিত রক্ত এবং শুকরের গোশত খাওয়া

৬৭ ৬৫ নং কবীরা গুনাহ: জুমু‘আর সালাত ও জামা‘আত চেড়ে দিয়ে বিনা কারণে একা একা সালাত আদায় করা

৬৮ ৬৬ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া

৬৯ ৬৭ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা

৭০ ৬৮ নং কবীরা গুনাহ: ষড়যন্ত্র করা এবং ধোক দেওয়া

৭১ ৬৯ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের ত্রুটি-বিচ্যুতি তালাশ করা এবং তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ করা

৭২ ৭০ নং কবীরা গুনাহ:  কোনো সাহাবীকে গালি দেওয়া

৭৩ ৭১ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায় বিচার

৭৪ ৭২ নং কবীরা গুনাহ: ঝগড়া করার সময় অতিরিক্ত গালি দেওয়া

৭৫ ৭৩ নং কবীরা গুনাহ: কোনো বংশ বা তার লোকদের খারাপ গুণে অভিহিত করা

৭৬ ৭৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত ব্যক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক ও উচ্চ শব্দে কান্নাকাটি করা

৭৭ ৭৫ নং কবীরা গুনাহ: যমীনের সীমানা উঠিয়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা

৭৮ ৭৬ নং কবীরা গুনাহ: অপসংস্কৃতি ও কু-প্রথার প্রচলন করা অথবা বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করা

৭৯ ৭৭ নং কবীরা গুনাহ: নারী অন্যের চুল ব্যবহার করা, শরীরে উলকি আকা, ভ্রু উপড়ানো, দাত ফাক করা

৮০ ৭৮ নং কবীরা গুনাহ: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কারো দিকে ইশারা করা

৮১ ৭৯ নং কবীরা গুনাহ: হারাম শরীফে ধর্মদ্রোহী কাজ করা