রমজান মাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রমজান মাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

ঈদ উদযাপনের পদ্ধতি

ঈদ উদযাপনের পদ্ধতি 


প্রশ্ন: আমি আশা করব, আপনারা একটি পরিবার কিভাবে ঈদ পালন করতে পারে সে ব্যাপারে উপদেশ দিবেন। (আপনাদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি দয়া করে এমন কিছু উল্লেখ করবেন না যে, কোন হারাম কাজ করবেন না; যেমন- অবাধ মেলামেশার স্থানে যাবেন না, সিনেমা হলে যাবেন না ইত্যাদি...। এগুলো আদৌ ঘটবে না)। মুমিনদের ঈদ যেমন হওয়া কর্তব্য সেটার কিছু উদাহরণ কি আপনারা পেশ করতে পারেন? কি কি তৎপরতায় তারা অংশগ্রহণ করতে পারে? স্বামী-স্ত্রী কি একত্রে বেড়াতে বের হতে পারে এবং কোন এক স্থানে বসে মজাদার খাবার-দাবার খেতে পারেন? আলেমগণ কিভাবে ঈদের দিন পালন করে থাকেন?


উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

আলহামদুলিল্লাহ।

ঈদের দিনগুলো আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের দিন। এ দিনগুলোতে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত, কিছু শিষ্টাচার ও কিছু প্রথাগত অভ্যাস। যেমন:

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯

মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিচ্ছিলেন সে সময় যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত ছিলেন

মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিচ্ছিলেন সে সময় যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত ছিলেন





মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিচ্ছিলেন সে সময় যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত ছিলেন

প্রশ্ন: রমজান মাসে ফজরের আযানের আগ থেকে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করছিলাম। আযান চলাকালীন সময়েও আমি সহবাসরত ছিলাম। তবে আযান শেষ হওয়ার আগেই আমরা বিরত হয়েছি। আমার ধারণা ছিল যে, মুয়াজ্জিনের আযান শেষ করার পূর্ব পর্যন্ত সহবাস করা জায়েয। এখন আমার করণীয় কি?

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।

এক:
যদি ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে মুয়াজ্জিন আযান দেন, তাহলে ওয়াজিব হল ফজরের ওয়াক্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (মুফাত্তিরাত) থেকে বিরত থাকা। তাই মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আক্‌বার’(আল্লাহ মহান) বলার সাথে সাথে খাদ্য, পানীয়, সহবাস ও সকল রোযা ভঙ্গকারী বিষয় (মুফাত্তিরাত) থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়ে যায়।

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

সাওম বিষয়ক আধুনিক কিছু মাসআলা

সূচীপত্র
ক্রম    শিরোনাম
১ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদ দেখা প্রসঙ্গ
২ চাঁদ প্রমাণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভর করার বিধান
৩ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পর ইফতার করল, অতঃপর বিমান উড্ডয়নের পর সূর্য দেখতে পেল
৪ যেসব দেশে রাত বা দিন ২৪ ঘন্টারও বেশি সময়ে প্রলম্বিত, সেসব দেশে কীভাবে সাওম পালন করতে হবে?
৫ সাওম পালনকারীর শ্বাসকষ্ট উপশমকারী স্প্রে (Inhaler/ইনহেলার বা Puffer/পাফার) ব্যবহারের বিধান
৬ সাওম পালনকারীর অক্সিজেন নেওয়ার বিধান
৭ সাওম পালনকারীর জন্য নাকের ড্রপ ব্যবহারের বিধান

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬

রমযান মাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর কিছু শিক্ষা


 রমযান মাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর শিক্ষা

রহমত, মাগফিতার ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে প্রতি বছর আমাদের দুয়ারে ফিরে আসে রমযান। মানবসৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই এ মাসে সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য ঘটনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এ মাসেই নাযিল হয়েছে। বিজয়ের মাসখ্যাত রমযানেই মুসলিমগণ বদরের প্রান্তরে কাফিরদের পরাজিত করে ইসলামের বিজয় নিশান উড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বের দরবারে। রমযানের নানা ঘটনাতে রয়েছে আমাদের মূল্যবান উপদেশ ও শিক্ষা আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন,  
﴿وَكُلّٗا نَّقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِۦ فُؤَادَكَۚ وَجَآءَكَ فِي هَٰذِهِ ٱلۡحَقُّ وَمَوۡعِظَةٞ وَذِكۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ١٢٠﴾ [هود: ١٢٠] 
“আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমরা তোমার মনকে স্থির করি, আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ” [সূরা হূদ, আয়াত: ১২০]

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

যাকাত বিধানের সারসংক্ষেপ

সূচীপত্র
ক্রম           শিরোনাম
১   যাকাতের অর্থ
২   যাকাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যাকাত না দেওয়ার পরিণতি
৩   যাকাত ফরয হওয়ার শর্তসমূহ
৪   প্রথম: অলঙ্কারের যাকাত
৫   স্বর্ণ ও রূপার যাকাতের নিসাব
৬   দ্বিতীয়: ব্যাংক নোটের যাকাত
৭   ঋণের যাকাত
৮   তৃতীয়: ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাত
৯   চতুর্থ: গুপ্তধনের যাকাত
১০  পঞ্চম: চতুষ্পদ প্রাণীর যাকাত
   ষষ্ঠ: ফল ও ফসলের যাকাত

বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬

জেনে নিন রমযানে কিভাবে কুরআন পাঠ শেষ করবেন?

জেনে নিন রমযানে কিভাবে কুরআন পাঠ শেষ করবেন?



জেনে নিন রমযানে কিভাবে কুরআন পাঠ শেষ করবেন?

রমজানে যা করনীয় আমরা যখন এ মাসের গুরুত্ব অনুভব করলাম তখন আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়াল কীভাবে এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো যায় সে প্রচেষ্টা চালানো। এ মাসে হেদায়াতের আলোকবর্তিকা আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। একজন ঘোষণাকারী ভাল কাজের আহ্বান জানাতে থাকে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে। সাথে সাথে এটা হল মাগফিরাতের মাস, জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ। আমাদের অনেকের ধারণা রমজান মাস সিয়াম পালন ও তারাবীহ আদায়ের মাস। ব্যাস ! আর কীসের আমল ? দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকছি এটা কম কি? না, ব্যাপারটা শুধু এ টুকুতে সীমিত নয়। রমজান একটি বিশাল বিদ্যাপীঠ। এ রমজানে আমরা কি কি নেক আমল করতে পারি তার মধ্যে একটি আমাল হল আল-কোরআন অর্থসহ বুঝে বুঝে খতম বা তিলাওয়াত  করা।

রবিবার, ২১ জুন, ২০১৫

রোযাবস্থায় বীর্যপাত এবং স্বপ্নদোষের বিধান

রোযাবস্থায় বীর্যপাত এবং স্বপ্নদোষের বিধান



রোযাবস্থায় বীর্যপাত এবং স্বপ্নদোষের বিধান

আলহামদুলিল্লাহ্ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মাবাদঃ
রামাযান মাসে সাউম পালনকারী ভাইদের পক্ষ থেকে উপরোক্ত বিষয়ে প্রায় প্রায় প্রশ্ন করা হয়। এ সম্পর্কে শরীয়ার সঠিক বিধান না জানা থাকার কারণে অনেকে অনেক রকমের ধারণা করে। কেউ মনে করে তার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে, কেউ বলে রোযা মাকরূহ হয়ে গেছে, কেউ ভাবে তার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে আর কেউ সংশয়ে থাকে। তাই সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়টির শারঈ সমাধান উল্লেখ করার নিয়ত করেছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা।

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০১৫

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (৩য় পর্ব)

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (৩য় পর্ব)



১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব


তৃতীয় অধ্যায় 
সালাতুত তারাবীহ

রমযানে ঈমান ও সাওয়াবের আশায় যে রাত জেগে ইবাদত করে তার ফযীলত:
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনতিনি বলেনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন,
«مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
“যে ব্যক্তি রমযানের রাতে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করেতার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়”[244]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেনআমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান সম্পর্কে বলতে শুনেছি,
«مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমযান অর্থ্যাৎ তারাবীর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে”[245]

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (২য় পর্ব)

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (২য় পর্ব)



১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব


শা‘বান মাসের সাওম

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিততিনি বলেন,
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: لاَ يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لاَ يَصُومُ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ»
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে (এত বেশি) সাওম পালন করতেন যেআমরা বলাবলি করতামতিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সাওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যেআমরা বলাবলি করতামতিনি আর (নফল) সাওম পালন করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ব্যতীত কোনো পুরা মাসের সাওম পালন করতে দেখি নি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোনো মাসে বেশি (নফল) সাওম পালন করতে দেখি নি”[164]

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (১ম পর্ব)

সহীহ হাদীসের আলোকে সাওম বিশ্বকোষ (১ম পর্ব)



১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব


সূচিপত্র
ক্রম বিষয়
1. ভূমিকা
2. প্রথম অধ্যয়: সাওমের পরিচয়, ইতিহাস ও তাৎপর্য
3. সাওমের পরিচয়, সাওমের অভিধানিক অর্থ
4. সাওমের ইতিহাস ও তাৎপর্য, যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ে সাওম
5. সাওমের তাৎপর্য

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

কোনো এক স্থানের চাঁদ দেখা সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য কি?

কোনো এক স্থানের চাঁদ দেখা সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য কি?



কোনো এক স্থানের চাঁদ দেখা সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য কি?

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিহিল্ আমীন, আম্মা বাদঃ
অতঃপর পবিত্র রামাযান মাস এবং ঈদ নিকটে আসলেই মুসলিম সমাজে একটি বিষয়ের চর্চা বৃদ্ধি পায়; বরং সাম্প্রতি বিষয়টির চর্চা একটু বেশীই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা হল, পৃথিবীর কোনো স্থানে বা দেশে যদি হিলাল (১ম তারিখের চাঁদ) দেখা যায় এবং সেই সংবাদ যদি বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়, তাহলে সেই খবরটি সকল মুসলিমের সাউম শুরু করা বা ছাড়ার জন্য প্রযোজ্য কি না? অনেক স্থানে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। পক্ষে বিপক্ষে দলীল-প্রমাণ ও যুক্তি দিতেও দেখা যায়। আবার অনেকে এসবের তোয়াক্কা না করে অন্য দেশে চাঁদ দেখা দিলে বিশেষ করে সউদীতে দেখা দিলে তারা সউদীর সাথে সাউম পালন শুরু করে দেয় কিংবা ঈদ করে। এর ফলে একই দেশে ও সমাজে বসবাস করার পরেও কেউ এক-দুই দিন আগেই রোযা ধরে কিংবা ছাড়ে।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

নামায নষ্ট করলে সিয়াম কবুল হয় না

নামায নষ্ট করলে সিয়াম কবুল হয় না



নামায নষ্ট করলে সিয়াম কবুল হয় না

প্রশ্ন: নামায না পড়ে সিয়াম পালন করা কি জায়েয?

উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

বে-নামাযীর যাকাত, রোজা, হজ্জ ইত্যাদি কোনো আমলই কবুল হয় না।

ইমাম বুখারী (৫২০) বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ )
“যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।”

“তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাযীর কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাযী তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

লাইলাতুল কদর: রমাদানের উপহার

লাইলাতুল কদর: রমাদানের উপহার



লাইলাতুল কদর: রমাদানের উপহার

সূরা কাদর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

১ নিশ্চয়ই আমি এটা অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে;
২ তুমি কি জান সেই মহিমান্বিত রজনীটি কি ?
৩ মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম।
৪ ঐ রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও (তাদের সর্দার) ‘রুহ’ অবতীর্ণ হর প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে।
৫ শান্তিই শান্তি, সেই রজনী ঊষার অভ্যুদয় পর্যন্ত।

বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪

ঈদুল ফিতর ও যাকাতুল ফিতর এর সংক্ষিপ্ত বিধি বিধান

ঈদুল ফিতর ও যাকাতুল ফিতর এর সংক্ষিপ্ত বিধি বিধান



ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর।
তারপর,
আলেমগণ সবসময় শরীয়তের বিধানকে সহজ ও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসার ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন; যাতে তারা এর দ্বার উপকৃত হতে পারে। এর কিছু নমূনা হচ্ছে, দীর্ঘ কিতাবসমূহকে সংক্ষিপ্তকরণ, গ্রন্থসমূহে ছোট আকারে উপস্থাপন, এর দ্বারা যে এ সব গ্রন্থ থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়, পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ও বিশেষ সবার মধ্যে প্রসার লাভ করে।
তাই ‘মুআসসাসাতু আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ’ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাইলো, যাতে করে শরীয়তের বিধানকে মানুষের দোর-গোড়ায় পৌঁছাতে পারে।
আর এ কারণে ‘ঈদুল ফিতর ও সাদাকাতুল ফিতর এর সংক্ষিপ্ত বিধি বিধান’ রচনা করেছে। এতে কোনো দলীল-প্রমাণ, আলেদের ভাষ্য কিংবা মাযহাবের মতামতের সৃদৃঢ়করণের কাজ করা হয় নি। শুধু মাসআলা ও বিধি-বিধান ও কারা তা বলেছে সেটাই নির্দেশ করা হয়েছে।
এটি এ বিষয়ে একটি বড় গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত অংশ, যা অচিরেই ‘আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ’ ওয়েবসাইটে আসবে ইনশাআল্লাহ। তখন পাঠকগণ মাযহাবের বিস্তারিত তথ্য, মুহাক্কিক আলেমদের ভাষ্য, প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতের দলীল, ইত্যাদি দেখতে পাবে। যা অত্যন্ত স্পষ্ট জ্ঞান-গর্ভ, গবেষণা নীতি অনুযায়ী হবে।
আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমরা যা জেনেছি তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন আর যা আমাদের উপকৃত করবে তা যেন তিনি আমাদের জানান।

ইলমী বিভাগ, মুআসসাসাতু আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ

সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪

রোযার ফযীলত ও শিক্ষা: আমাদের করণীয়

রোযার ফযীলত ও শিক্ষা: আমাদের করণীয়



 রোযার ফযীলত ও শিক্ষা: আমাদের করণীয়

রোযা ইসলামের অন্যতম ফরয ইবাদাত। ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য রোযার বিধান চালু হয়েছে। ইসলাম হচ্ছে মুসলিমের পাঁচ স্তম্ভ বিশিষ্ট ঘর। রোযা হচ্ছে সেই ঘরের তৃতীয় স্তম্ভ।

রোযার পরিচয়
رمضان শব্দটি رمض শব্দ হতে নির্গত। এর অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। রোযা রাখলে গুনাহ মাফ হয়। রমযান গুনাহকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। তাই এর নাম রমযান।
পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনসম্ভোগ হতে বিরত থাকার নাম রোযা।
রমযানের রোযা কেন ফরজ করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:
 ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ ﴾ [البقرة: ١٨٣] 
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরয করা হয়েছিল। সম্ভবতঃ এর ফলে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’’(সূরা আল বাকারা: ১৮৩)

শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

বদর যুদ্ধ

বদর যুদ্ধ


মদীনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ১৫০ কি:মি: দূরে অবস্থিত এই সেই ঐতিহাসিক বদর প্রান্তর

বদর যুদ্ধ

সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি শক্তিশালী সুদৃঢ়, পদানতকারী বিজয়ী কর্তৃত্বশীল, প্রকাশ্য সত্য, মৃদু কান্নার শব্দও যার শ্রবণ থেকে গোপন থাকে না, যার মহত্বের কাছে ক্ষমতাধর নরপতিরা হীন হয়ে গেছে। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী ফয়সালা করেন, আর তিনি মহাবিচারক।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি পূর্বের ও পরের সবার ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে তিনি সকল সৃষ্টিকুল থেকে বেঁছে নিয়েছেন, বদর প্রান্তরে ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছেন।
আল্লাহ তাঁর উপর সালাত পেশ করুন, অনুরূপ তার পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের অনুসারীদের সবার উপর। আর তিনি তাদের উপর যথাযথ সালামও প্রদান করুন।

রমযানে কিয়ামুল লাইলের বিধান

রমযানে কিয়ামুল লাইলের বিধান



রমযানে কিয়ামুল লাইলের বিধান

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি নিজ দয়ায় সামনে অগ্রসরমান পাগুলোকে সাহায্য করেন, আপন করুণায় ধ্বংসপ্রায় জীবনগুলোকে উদ্ধার করেন এবং যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে সহজতর পথ জান্নাতের রাস্তাকে সহজ করে দেন, ফলে তাকে আখিরাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। আমি তাঁর স্তুতি গাই তাবৎ সুস্বাদ ও বিস্বাদ বিষয়ের জন্য।
আমি সাক্ষ্য প্রদান করি যে একমাত্র তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী; প্রতিটি অন্তরই (তাঁর সামনে) লাঞ্ছিত ও দুর্দশাগ্রস্ত। আর আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে আপন রবের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন। 

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

তারাবীহ -এর সালাতের রাক্‌‘আত সংখ্যা

তারাবীহ -এর সালাতের রাক্‌‘আত সংখ্যা

ফাত্‌ওয়া নং : 9036


তারাবীহ -এর সালাতের রাক্‌‘আত সংখ্যা

প্রশ্ন : আমি প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম। আশা করি এর উত্তর দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন কারণ আমি এর কোনো সন্তোষজনক জবাব পাই নি। প্রশ্নটি হলো তারাবীহ সম্পর্কে, তা কি ১১ রাক্‌‘আত নাকি ২০ রাক্‌‘আত? সুন্নাহ মতে তো তা ১১ রাক্‌‘আত । শাইখ আল-আলবানী –রহিমাহুল্লাহ –“আল-ক্বিয়াম ওয়া আত-তারাউয়ীহ”-বইতে বলেছেন (তা) ১১ রাক্‌‘আত । কেউ কেউ সেই মাসজিদে যায় যেখানে ১১ রাক্‌‘আত সালাত  আদায় হয়, আবার অনেকে সেই মাসজিদে যায় যেখানে ২০ রাক্‌‘আত সালাত আদায় হয়। তাই এই মাসআলাটি এখানে যুক্তরাষ্ট্রে সংবেদনশীল হয়ে গেছে। যে ১১ রাক্‌‘আত সালাত আদায় করে সে ২০ রাক্‌‘আত সালাত আদায়কারীকে দোষারোপ করে; আবার এর বিপরীতটিও হয়। তাই (এই ব্যাপারটি নিয়ে) ফিতনাহ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি আল-মাসজিদ আল-হারামেও ২০ রাক্‌‘আত সালাত  আদায় করা হয়।
কেন আল-মাসজিদ আল-হারাম ও আল-মাসজিদ আন-নাবাউয়ীতে সুন্নাহ থেকে বিপরীত করা হয়? কেন তারা আল-মাসজিদ আল-হারাম ও আল-মাসজিদ আন-নাবাউয়ী-তে ২০ রাক্‌‘আত তারাউয়ীহ-এর সালাত  আদায় করেন?

উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আমরা মনে করি না যে ‘আলিমগণের মধ্যে ইজতিহাদী মাসআলাসমূহ নিয়ে একজন মুসলিমের এ ধরনের সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত যা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ ও ফিতনাহ সৃষ্টির কারণ হয়।

শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৩

কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে রাতের সালাত

কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে রাতের সালাত



কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে রাতের সালাত

ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, আমরা তার প্রশংসা করি, তার নিকট সাহায্য চাই এবং তার নিকট ইস্তেগফার করি। আমরা আমাদের কু-প্রবৃত্তি ও বদ আমলের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না, আর তিনি যাকে গোমরাহ করেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তার ওপর, তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর কিয়ামত পর্যন্ত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, বক্ষ্যমাণ রচনা রাতের সালাত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত এক প্রয়াস, যেখানে আমি তাহাজ্জুদের অর্থ, কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাতের ফযিলত, উত্তম সময়, রাকাত সংখ্যা, কিয়ামুল লাইলের আদব ও কিয়ামুল লাইল আদায়ে সাহায্যকারী কতক উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আরো বর্ণনা করেছি তারাবির অর্থ, হুকুম, ফযিলত, সময়, রাকাত সংখ্যা ও তাতে জামাতের বিধান। অতঃপর স্পষ্ট করেছি বেতের সালাতের অর্থ, হুকুম, ফযিলত, সময়, বেতের আদায়ের বিভিন্ন পদ্ধতি, রাকাত সংখ্যা, তাতে কিরাত ও কুনুতের বর্ণনা, বেতের শেষে সালামের পর দোয়া এবং বেতের রাতের সালাতের অন্তর্ভুক্ত, বরং বেতের রাতের সর্বশেষ সালাত ইত্যাদি বিষয়। যে বেতের না পড়ে ঘুমিয়ে গেল অথবা ভুলে গেল তার কাযা করার বিধানও বর্ণনা করেছি এখানে। প্রত্যেকটি মাসআলা আমি দলিলসহ বর্ণনা করেছি। এ গ্রন্থ লেখার সময় আমি আমাদের শায়খ আল্লামা ইব্‌ন বায রহ. এর বয়ান-বক্তৃতা থেকে অধিক উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা যে, তিনি আমার এ ক্ষুদ্র আমলকে গ্রহণযোগ্য, বরকতময় ও একমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। এর দ্বারা তিনি আমাকে ইহকাল ও পরকালে উপকৃত করুন, যারা এ গ্রন্থ পাঠ করবে তাদের সবাইকে তিনি উপকৃত করুন। তিনি প্রার্থনা কবুলকারী, আশা পূর্ণকারী, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও আমাদের উত্তম অভিভাবক। তার সাহায্য ব্যতীত পাপ থেকে বিরত থাকা ও নেক আমল করার কোন শক্তি নেই। আল্লাহ তার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর দরূদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মখলুক, আমাদের নবী, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ, আর তার বংশধর ও সাথীদের ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর রহমত ও সালাম বর্ষণ করুন।
লেখক
শুক্রবার, সকাল বেলা
৯/১/১৪২১হি.