বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভোট দেয়া কি জায়েজ ???



গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভোট দেয়া কি জায়েজ ???

১) শায়খ ড. সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

​সৌদি আরবের বর্তমান গ্রান্ড মুফতি শাইখ সালেহ আল-ফাওযান বৃহত্তর অনিষ্ট রোধে ভোট দেওয়াকে জায়েজ বলেছেন।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

إذا كان هناك مرشحان: أحدهما خير من الآخر، أو أحدهما أقل شراً من الآخر، والناس لا بد أن ينتخبوا واحداً منهما، ففي هذه الحالة ينتخب من هو خير، أو من هو أقل شراً؛ لدفع أعظم الشرين.

অনুবাদ:

"যদি দুইজন প্রার্থীর মধ্যে একজন অন্যজনের চেয়ে ভালো হয়, অথবা একজন অন্যজনের চেয়ে কম মন্দ হয় এবং জনগণকে তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতেই হয়; তবে এমতাবস্থায় যিনি বেশি ভালো অথবা যার মন্দ হওয়ার মাত্রা কম, তাকেই নির্বাচন করতে হবে। যাতে এর মাধ্যমে দুটি মন্দের মধ্যে বড় মন্দকে প্রতিহত করা যায়।"

তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://alfawzan.af.org.sa/ar/node/14872


২) শাইখ সালেহ আল-উসাইমী (হাফি.)

বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শাইখ সালেহ আল-উসাইমী শরিয়তের ‘মাসলাহাত’ বা জনকল্যাণের ভিত্তিতে নির্বাচনে ভোটদানকে বৈধ ও প্রয়োজনীয় বলেছেন।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

الانتخابات من مسائل السياسة الشرعية التي يُنظر فيها إلى المصالح والمفاسد، فإذا كان في دخول المسلم في هذه الانتخابات تقليل للشر أو جلب للمصلحة، فإنه يُشرع له ذلك، بل قد يجب إذا تعين وسيلة لدفع مفسدة كبرى.

​অনুবাদ:

"নির্বাচন হলো 'সিয়াসাহ শারইয়্যাহ' (শরীয়তসম্মত রাজনীতি)-এর অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়, যা লাভ-ক্ষতি বা কল্যাণ-অকল্যাণের (মাসলাহাত-মাফাসাদ) মাপকাঠিতে বিচার করা হয়। যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মন্দের পরিমাণ কমানো যায় অথবা কল্যাণ অর্জন করা যায়, তবে তা শরীয়তসম্মত। এমনকি এটি ওয়াজিব (আবশ্যক) হয়ে যেতে পারে যদি এটি কোনো বড় বিপর্যয় রোধের একমাত্র মাধ্যম হয়।"

​তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://al-osaymi.com/fatwa/781/

৩) শায়খ প্রফেসর ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ)

​মদীনার মসজিদে নববীর মুদাররিস শাইখ সুলায়মান আল-রুহাইলী একে 'ফিতনা কমানোর মাধ্যম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

الانتخابات في الأصل ليست من طرق الحكم في الإسلام، ولكن إذا وجدنا في بلد لا يمكن دفع الشر أو تقليله إلا بالانتخابات؛ فإننا نختار الأمثل فالأمثل.

​অনুবাদ:

"মূলত নির্বাচন ইসলামি শাসনপদ্ধতির কোনো অংশ নয়। কিন্তু আমরা যদি এমন কোনো দেশে থাকি যেখানে নির্বাচন ছাড়া মন্দকে দূর করা বা মন্দের প্রভাব কমানো সম্ভব নয়, তবে আমরা প্রার্থীদের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও উত্তম ব্যক্তিকে বেছে নেব (ভোট দেব)।"

​তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://www.suleimanruhayli.com/fatwa/652/

৪) শাইখ সালিহ আল-লুহাইদান (রহ.)

​সৌদি আরবের ​সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সদস্য, হায়আতু কিবারিল উলামা শাইখ লুহাইদান মনে করতেন, মুসলিমদের যদি সুযোগ থাকে তবে ভোটের মাধ্যমে মন্দ প্রার্থীকে ঠেকিয়ে তুলনামূলক ভালো প্রার্থীকে বিজয়ী করা উচিত।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

إذا كان هناك مرشحون، وكان فيهم من هو معروف بالخير، وفيهم من هو معروف بالشر؛ فإنه ينبغي للمسلم أن يختار من هو أقرب للخير، لأن ترك التصويت قد يؤدي إلى فوز من هو أشد شراً.

​অনুবাদ:

"যদি একাধিক প্রার্থী থাকে এবং তাদের মধ্যে কেউ কল্যাণকামী হিসেবে পরিচিত হয় আর কেউ অকল্যাণকামী হিসেবে; তবে মুসলিমদের উচিত হবে সেই ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া যে কল্যাণের অধিক নিকটবর্তী। কারণ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এমন একজনকে বিজয়ী করতে পারে যে অধিকতর মন্দ বা ক্ষতিকর।"

​ তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://lohaidan.af.org.sa/ar/node/148


৫) শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ (হাফি.)

​মদীনার প্রবীণ মুহাদ্দিস এবং মসজিদে নববীর দীর্ঘকালীন মুদাররিস শাইখ আব্বাদ বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে এবং মুসলিম দেশগুলোর পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে 'আখাফফুয যররাইন' (ক্ষতি কমানো) এর মূলনীতি অনুযায়ী ভোট দেওয়াকে জায়েজ মনে করেন।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

الانتخابات إذا كانت بين من هو شرير ومن هو أقل شراً؛ فإنه يُختار الأقل شراً لدفع الشر الأكبر، وهذا من باب ارتكاب أخف الضررين.

​অনুবাদ:

"নির্বাচন যদি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হয় যেখানে একজন পাপিষ্ঠ এবং অন্যজন অপেক্ষাকৃত কম পাপিষ্ঠ; তবে বড় অনিষ্ট রোধ করার জন্য কম পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকেই বেছে নিতে হবে। এটি 'আখাফফুয যররাইন' বা দুটি ক্ষতির মধ্যে ছোটটি গ্রহণ করার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত।"

​তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://al-abbaad.com/fatwa/5412/


৬) শাইখ মুহাম্মাদ আমান আল-জামী (রহ.)

​সাবেক প্রধান, আক্বীদাহ বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাইখ আমান আল-জামী (রহ.)-কে যখন অমুসলিম বা সেক্যুলার দেশে মুসলিমদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে একে জায়েজ বলেছেন।

​শাইখের মূল বক্তব্য:

​إذا كان دخول المسلمين في الانتخابات يترتب عليه مصلحة راجحة، كأن يكون سبباً في تخفيف الضغط عن المسلمين، أو الحصول على بعض حقوقهم، أو تقليل الشر؛ فإن ذلك جائز من باب ارتكاب أخف الضررين، ولا يُعتبر ذلك إقراراً للنظام الديمقراطي.

​অনুবাদ:

"যদি নির্বাচনে মুসলিমদের অংশগ্রহণের ফলে কোনো সুনিশ্চিত কল্যাণ (মাজলাহাত) অর্জিত হয়—যেমন এর মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর চাপ কমে যাওয়া, তাদের কিছু অধিকার আদায় হওয়া অথবা অকল্যাণ বা অনিষ্টের পরিমাণ কমে আসা; তবে এটি 'আখাফফুয যররাইন' (দুটি ক্ষতির মধ্যে ছোটটি গ্রহণ) এর মূলনীতি অনুযায়ী জায়েজ। তবে একে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হিসেবে গণ্য করা যাবে না।"

​তথ্যসূত্র ও বক্তব্যের লিংক:

https://amanjamy.net/fatwa/417/


আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং দ্বীনের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।


পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন