শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩

রিযকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর ইচ্ছাধীন

রিযকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর ইচ্ছাধীন



রিযকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর ইচ্ছাধীন

আল্লাহ তাআলা বলেন :

 বল, ‘আমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিয্ক প্রশস্ত করেন অথবা সঙ্কুচিত করেনকিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না সূরা সাবা : (৩৬)

আল্লাহ তাআলা নিজ বান্দাদের পরীক্ষা ও পরখ করার জন্য রিযক বৃদ্ধি বা হ্রাস করেনরিযক বৃদ্ধি যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়, অনুরূপ রিযকের সংকীর্ণতা তার অসন্তুষ্টির কারণ নয়অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়টি জানে নাদুনিয়ার সচ্ছলতা কারো শুভলক্ষণের দলিল নয়, কারণ আখেরাতের সাফল্য নির্ভর করে নেক আমলের উপর, যা চিরস্থায়ী ও চিরকালদুনিয়াতে কখনো আল্লাহ অবাধ্যকে দেন সচ্ছলতা, আনুগত্যকে দেন সংকীর্ণতাআবার কখনো এর বিপরীত করেনকখনো উভয়কে সচ্ছলতা দেন, কখনো দেন সংকীর্ণতাকখনো অবাধ্য বা আনুগত্য একই ব্যক্তিকে এক সময় দেন সচ্ছলতা, অপর সময় দেন অস্বচ্ছলতাএসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন আল্লাহ তাআলা নিজ প্রজ্ঞা ও হিকমতের ভিত্তিতে, যদি সচ্ছলতা সম্মান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ হতো, তাহলে এর অধিকারী একমাত্র অনুগতরাই হতো, অবাধ্যরা কখনো এর স্বাদ পেত নাআর যদি সংকীর্ণতা অপমান ও আল্লাহর গোস্বার কারণ হতো, তাহলে অবাধ্যরা সদা সংকীর্ণতা ভোগ করত, অথচ বাস্তব এমন নয়সারকথা সচ্ছলতা বা সংকীর্ণতা অবাধ্য বা অনুগত উভয়ের জন্যই সমান

বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩

ইসলামে নারীর অধিকার

ইসলামে নারীর অধিকার



ইসলাম তার শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে মানব প্রকৃতিকে- যা দিয়ে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- সমর্থন ও শক্তিশালী করে। আল্লাহ তা'আলা মানুষকে দ্ব্যর্থহীন কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নারী-পুরুষ দুই শ্রেণীতে সৃষ্টি করেছেন। এরা যাতে একে অপরের সম্পূরক হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ঠিক রাত-দিনের মতো। যে দুয়ের সমন্বয়ে হয় একটি দিন। কিংবা বলা যায় ইতি ও নেতিবাচক স্রোত তথা জোয়ার-ভাটার মতো, যে দুইয়ের যেগে গঠিত হয় বিদু্ৎ-শক্তি। এ বিদু্ৎ-শক্তি সঞ্চার করে বহু জড় পদার্থে প্রাণ ও প্রাণস্পন্দন।

আল্লাহ তাআলা নারীকে যেসব অনন্য বৈশিষ্ট্যে শোভিত করেছেন, তার অন্যতম হলো আচার-আচরণে আহ্লাদের প্রাচুর্য ও আবেগের বাহুল্য। তেমনি গঠন-প্রকৃতিতেও নারী কোমলতা ও এমন নম্রতায় সমুজ্জ্বল,  যা পুরুষের সঙ্গে বসবাসরত পরিবেশে তার স্বাধীনতাকে করে সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তাআলা নারীকে স্বভাব-চরিত্রেও বানিয়েছেন কোমল। যাতে সে শুষে নিতে পারে পুরুষের যাবতীয় রুক্ষতা। কেড়ে নিতে পারে তার হৃদয়-অন্তর। নারীর সান্বিধ্য পুরুষকে দেয় মানসিক আশ্রয়। যেখানে এলে তার টেনশন-অস্থিরতা লঘু হয়। কেটে যায় সব ক্লান্তি ও বিস্বাদ। একইভাবে সে যাতে হয় মমতাময়ী এবং শিশুর লালন-পালনে উপযুক্ত।

আবেগ ও অনুভূতিপ্রবণ এক কোমল সৃষ্টি নারী। অপরের সুখের জন্য নারীই পারে সবচে বেশি ত্যাগের মহত্ব প্রকাশ করতে। এসব মানবিক গুণ ও সহজাত উপাদান ছাড়া কোনো পরিবার ও সমাজ টেকসই হয় না। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রমাণ করেছে, নারীই সবচে বেশি কঠিন মানসিক চাপ বহন করতে সক্ষম। মানসিক আঘাত সারাতে নারীই রাখতে পারে সবচে বেশি কার্যকর ভূমিকা।

অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন রূঢ়তা ও কঠোরতা দিয়ে। যা তাকে স্থান ও কালের বিবেচনায় বৃহত্তর অঙ্গনে বিচরণের সুযোগ এনে দেয়। মানুষ যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হয় তা থেকে আত্মরক্ষায় শারীরিকভাবে পুরুষ অধিক সক্ষম। তাই শত্রু কর্তৃক তুলনামূলক সে কমই আক্রান্ত হয়। তেমনি তার মানসিক গঠনেও দৃঢ়তা বেশি। এ কারণে সে অনেক দুর্ঘটনার সামনেও অবিচল থাকতে পারে। যেমন অকস্মাৎ কোনো সরীসৃপ বা ভীমদর্শন প্রাণীর আবির্ভাব ইত্যাদি। এ জন্যই সে নারীর তুলনায় বেশি নিরাপত্তা ও সাহসিকতার সঙ্গে ভীতিকর, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে এগিয়ে যায়। এ কারণেই সে নিরব নিষুতি রাতেও আতঙ্ক জাগানিয়া নানা প্রান্ত বীরদর্পে অতিক্রম করতে পারে। নিরাপদে ফিরে আসতে পারে স্বজনের কাছে। যা পারে না একজন নারী।

উল্লেখ্য, সাধারণত আমরা যখন পুরুষ বা নারীর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করি, তা কিন্তু ব্যতিক্রম অবস্থার অস্তিত্ব অস্বীকার করে না। কারণ, অনেক সময় নারীর বৈশিষ্ট্যের জায়গায় দেখা যায় পুরুষকে। যেমন পুরুষের স্বকীয় স্থানে দেখা যায় নারীকেও।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম



ভূমিকা

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে করেছেন পরিপূর্ণ, আর আমাদের জন্য সম্পন্ন করেছেন তার অসংখ্য ও অগণিত নেয়ামতসমূহ এবং এ উম্মত তথা মুসলিম জাতিকে বানিয়েছেন সমগ্র উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম উম্মত। আমাদের থেকেই একজনকে রাসূল হিসেবে আমাদের কল্যাণের জন্য প্রেরণ করেছেন, যিনি আমাদের নিকট আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, আমাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সংশোধন করেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সে মহামানবের উপর, যাকে সমগ্র জগতবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচন করা হয়েছে নেক আমলকারীদের জন্য আদর্শস্বরূপ। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার সমগ্র পরিবারবর্গ ও সাথী সঙ্গীদের উপর, যারা নবীগণের পর দুনিয়াতে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। আমীন।
একজন মুসলিম বান্দার উপর আল্লাহ তাআলার নেয়ামত ও অনুগ্রহ এত বেশি যে, দুনিয়ার কোন হিসাব-নিকাশ তা আয়ত্ত করতে পারবে না এবং হিসাব করে শেষও করা যাবে না। বিশেষ করে, আল্লাহ তাআলা একজন মুসলিমকে এ মহান দ্বীনের প্রতি যে হেদায়াত দিয়েছে, এর চেয়ে বড় নেয়ামত দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা নিজেই এ দ্বীনের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন এবং তিনি তার বান্দাদের জন্য এ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং পছন্দ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার বান্দাদের থেকে এ দ্বীন ছাড়া অন্য কোন আর কিছুই তিনি কবুল করবেন না। কারণ, এ দ্বীনের কোন বিকল্প নাই, আল্লাহ তাআলা মানবজাতির কল্যাণের জন্য এ দীনকেই বাছাই করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا .
 অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে। [সূরা: আল-মায়েদাহ্, আয়াত: ৩]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
 إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ.
অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দীন হল ইসলাম। [সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায়, তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা: আলে-ইমরান আয়াত: ৮৫]
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ ﴿7﴾ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
অর্থ, আর তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাইতো সত্য পথপ্রাপ্ত ছিল| আল্লাহর পক্ষ হতে করুণা ও নিয়ামতস্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। [সূরা: আল-হুজরাত, আয়াত: ৭-৮]

আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত দ্বীন এমন, যা দ্বারা আল্লাহ সংশোধন করেছেন মানব জাতির নৈতিক চরিত্র ও বিশ্বাস এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে করেছেন সুন্দর। যারা এ দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও আনুগত্য করবে এবং দ্বীনের নির্দেশকে যথাযথ পালন করবে, আল্লাহ তাদেরকে যাবতীয় ভ্রান্তি ও গোমরাহি থেকে মুক্ত রাখবেন, তারা কখনই বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হবে না এবং কোন প্রকার গোমরাহি তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। এ দ্বীনকে বাদ দিয়ে যারা অন্য পথে গিয়েছে, তার পদে পদে বিপদের সম্মূখীন হয়েছে। তারা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আ যাদের এ দ্বীনের প্রতি হেদায়ত দিয়েছে, তারাই দুনিয়াতে আলোর সন্ধান পেয়েছে।
 মনে রাখতে হবে, এ দ্বীন হল, অত্যন্ত মজবুত ও শক্তিশালী দ্বীন, যার কোন বিকল্প নাই, এ দ্বীনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অতীব সুদৃঢ় ও বস্তুনিষ্ঠ। এ দ্বীনের দিকে পথনির্দেশ বা আহ্বান করা যেমন মহৎ, অনুরূপভাবে যারা এ দ্বীনের ডাকে সাড়া দেবে, তাদের পরিণতি ও ফলাফল সবই হবে মধুর ও সুখকর।
 আরও মনে রাখতে হবে, এ দ্বীনের প্রতিটি সংবাদ সঠিক ও নির্ভুল। বিধানসমূহ ইনসাফ-পূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ। এমন কোন আদেশ দেয়া হয়নি যার সম্পর্কে কোন সত্যিকার জ্ঞানী ব্যক্তি বলতে পারে, দ্বীনের এ আদেশটি যথার্থ বা প্রযোজ্য নয়। আবার এমন কোন নিষেধও করা হয়নি, যার সম্পর্কে কোন বুদ্ধিমান বলতে পারে এ কাজটি হতে নিষেধ করা অযৌক্তিক বা এ নিষেধটি না করলে ভালো হত। দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত এমন কোন সত্যিকার জ্ঞানের আবির্ভাব হয়নি; যা দ্বারা এ দ্বীনের কোন বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে এবং এমন কোন বিধান আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি যার দ্বারা দ্বীনের কোন বিধানকে অযৌক্তিক প্রমাণ করা যেতে পারে। এ দ্বীন এমন একটি দ্বীন, যা মানুষের স্বভাবের সাথে আঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ দ্বীন মানুষকে সঠিক পথ দেখায় ও হকের সন্ধান দেয়, সত্যের পতাকা তলে আশ্রয় দেয়। সততা হল এ দ্বীনের নিদর্শন, আর ইনসাফ হল এ দ্বীনের ভিত্তি, হক্ব হল এ দ্বীনের খুঁটি, রহমত হল এ দ্বীনের আত্মা ও শেষ প্রান্তর এবং কল্যাণ হল এ দ্বীনের চির সাথী। সংশোধন ও সতর্ক করা এ দ্বীনের সৌন্দর্য ও কর্ম, আর উত্তম চরিত্র হল এ দ্বীনের সম্বল ও উপার্জন।
 যে ব্যক্তি এ দ্বীনকে ছেড়ে দেয় এবং এ দ্বীনের অনুকরণ হতে বিরত থাকে, তার বিশ্বাস ও অবিচলতার বিলুপ্তি ঘটে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আর অবশিষ্ট থাকে না, উন্নত ও উৎকৃষ্ট চরিত্রের অবনতি ঘটে। ভ্রান্ত ধারণাগুলো তার মধ্যে প্রগাঢ় হয়। দুশ্চিন্তা ও নানাবিধ ভ্রান্তি তার মধ্যে জাল বুনে। তার নীতি-নৈতিকতার পতন ঘটে এবং চারিত্রিক অবনতি দৃশ্যমান হয়।
 বলা বাহুল্য যে, দুনিয়াতে একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় পাওনা হল এ মহান দ্বীনের প্রতি হেদায়াত লাভ করা। আল্লাহ তাআলা যাকে এ দ্বীনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও এ দ্বীনের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলার তাওফিক দিয়েছেন, তার চেয়ে সৌভাগ্যবান ও সফল ব্যক্তি দুনিয়াতে আর কেউ হতে পারে না। সেই দুনিয়া ও আখেরাতে একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।
আর এ দ্বীনের পূর্ণতা ও সৌন্দর্য হল, মুসলিম মহিলা ও নারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। যারা এ দ্বীনের অনুসারী তাদের দায়িত্ব হল, নারীদের ইজ্জত সম্ভ্রমের হেফাযত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করা এবং তাদের অধিকারের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখা, আর তাদের প্রতি কোন প্রকার বৈষম্য না করা। কোন মুসলিম ব্যক্তি যেন কোন নারীর সাথে এমন কোন কাজ না করে, যাতে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং তাদের প্রতি কোন প্রকার অবমাননা হয়। এ ধরনের যে কোন কাজকে ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যাতে তাদের উপর কোন প্রকার যুলুম- অত্যাচার করতে না পারে, তার প্রতি ইসলাম বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। যে সব কাজে বা কর্মে এ ধরনের অবকাশ থাকে, ইসলাম সে ধরনের কাজ-কর্ম থেকে মুসলিমদের দূরে থাকা নির্দেশ দিয়েছে।
আর আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতির জন্য এবং বিশেষ করে যারা নারীদের সাথে বসবাস ও ঘর সংসার করে তাদের জন্য বিশেষ কিছু আইন, কানুন ও নীতিমালা এবং এমন কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে, নারীদের প্রতি কোন প্রকার অসদাচরণ করার সুযোগ থাকে না। তখন তারা অবশ্যই লাভ করবে আনন্দদায়ক জীবন, যথার্থ অধিকার এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।

মুসলিম নারীর অবশ্যই পালনীয় কতিপয় আমল

মুসলিম নারীর অবশ্যই পালনীয় কতিপয় আমল



মুসলিম নারীর অবশ্যই পালনীয় কতিপয় আমল

হে মুমিনা! উত্তম চরিত্র হলো আপনার জীবনের ভিত্তি স্বরূপ। এর উপরই নির্ভর করছে আপনার সুখ ও সমৃদ্ধি। যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে উত্তম চরিত্রে ভূষিত করেন, তাহলে সমস্ত রকম কল্যাণ পেয়ে যাবেন। আর যদি উহা হতে বঞ্চিতা হোন, তাহলে  যেন সমস্ত  কল্যাণ হতে বঞ্চিত হয়ে গেলেন।  কোন এক সাহাবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন উত্তম আমল কি? তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন
البر حسن الخلق . رواه مسلم
অর্থ : উত্তম চরিত্রই হচ্ছে উত্তম কাজ।
আবার যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল কোন গুণের কারণে মানুষ বেশী বেশী জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি উত্তরে বললেন:
تَقْوَى اللهِ تَعَالَى، وَحُسْنُ الْخُلُقِ . الترمذي
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ভয় এবং উত্তম চরিত্র।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন:
إنَّ مِنْ أحَبِّكُمْ إلَيَّ وَأقْرَبُكُمْ مِنِّيْ مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أحْسَنُكُمْ أخْلَاقًا. رَوَاه البخاري
 তেমাদের মধ্যে যারা চারিত্রিক গুণে উত্তম, তারাই আমার কাছে প্রিয়তর এবং কিয়ামত দিবসে তারাই সবচেয়ে আমার নিকটবর্তী হবে। (বুখারী)
إنَّ الْعَبْدَ لَيَيْلُغُ بِحُسُنِ خًلًقِهِ عَظِيْمً دَرَجَاتِ الأخِرَةِ وَشَرْفُ الْمَنَازِلِ، وَإنهُ لَضَعِيْفُ الْعِبَادَةِ . رواه الطبراني
নিশ্চয় কোন কোন বান্দা তার উত্তম চরিত্রের কারণে আখিরাতে উচু মাকাম লাভ করবে, যদিও সে ইবাদতে দুর্বল। (তাবারানী, উত্তম সনদে বর্ণিত)

আর উত্তম চরিত্র গঠন করতে হলে মুজাহাদা বা প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কষ্ট ও মেহনত করে নিজের মধ্যে ঐ সকল চারিত্রিক গুণাবলীর সমাবেশ ঘটাতে এবং সবসময় সেভাবে চলার চেষ্টা করবেন। ইনশা আল্লাহ এই উত্তম চরিত্রের কারণেই আপনি জয় যুক্ত হবেন। মনে রাখবেন সম্মান রয়েছে উত্তম চরিত্রের মধ্যেই।  এখানে কয়টি উত্তম চরিত্রের দিক আলোচনা করা হলো:

জুলুম : পীড়িতের অশ্রু পীড়কের পরাজয়

জুলুম : পীড়িতের অশ্রু পীড়কের পরাজয়



পৃথিবীর সবাই শান্তি চায়। তাবৎ রাষ্ট্রই চায় সুখ-সমৃদ্ধি অর্জন করতে। কিন্তু সুখ নামের সোনার হরিণটি কেন জানি অধরাই থেকে যায়! কারণ কী? কারণ হলো শান্তি কামনা করলেও অধিকাংশই পারে না শান্তির পথ অবলম্বন করতে। সুখ ও শান্তির দেখা পেতে হলে আবশ্যক মানুষের মধ্যে অধিকার ও ইনসাফ নিশ্চিত করা। পরস্পরে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির চর্চা করা। অধিকার ও ইনসাফ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল প্রশান্তি ছড়ায়। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা পায়। সমাজে একে অপরের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ধনী-গরিবের মধ্যে আস্থা গড়ে ওঠে। সম্পদ উন্নত ও রাষ্ট্র সমৃদ্ধ হয়। স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পায় এবং অস্থিতির পরিবর্তে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তখন কেউ অস্থিরতায় পতিত হয় না। সর্বোপরি উন্নয়ন-উৎপাদনে আমির-ফকির ও মালিক-শ্রমিক প্রত্যেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ধাবিত হয়। পথ-পরিক্রমায় এমন কিছুর সৃষ্টি হয় না যা কারো কর্মস্পৃহাকে ভোতা কিংবা উত্থানকে বাধাগ্রস্ত করে।

পক্ষান্তরে জুলুম এসবকে সুদূর পরাহত করে। সমাজের শান্তি ও স্থিতি এবং মানুষের সুখ ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। ইসলাম তাই মানুষকে ইনসাফে উদ্বুদ্ধ করেছে। সতর্ক করেছে জুলুম ও অনাচার থেকে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহের অসংখ্য জায়গায় বিবিধ প্রসঙ্গে নানা উপায়ে ইনসাফের উপদেশ দেয়া হয়েছে। নিষেধ করা হয়েছে জুলুম ও বেইনসাফি থেকে। মানুষের কল্যাণে উদ্বুদ্ধ এবং অনিষ্ট সাধন থেকে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ কারও প্রতি যেমন জুলুম করেন না, তেমনি তিনি কারও কাছে তা প্রত্যাশাও করেন না। পবিত্র কুরআনে তিনি বলেন,
﴿ وَمَا ٱللَّهُ يُرِيدُ ظُلۡمٗا لِّلۡعِبَادِ ٣١ ﴾ [غافر: ٣١] 
আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করতে চান না।’ {সূরা আল-মুমিন, আয়াত : ৩১}

আবূ যর গিফারী রাদিআল্লাহ আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
«يَا عِبَادِى إِنِّى حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِى وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلاَ تَظَالَمُوا».
হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং একে তোমাদের মাঝেও হারাম করেছি। অতএব তোমরা পরস্পর জুলুম করো না।’ [মুসলিম : ৬৭৩৭]

বুধবার, ১ মে, ২০১৩

মিথ্যার প্রচলিত আকার-প্রকৃতি

মিথ্যার প্রচলিত আকার-প্রকৃতি

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করি। তাঁরই উপর বিশ্বাস স্থাপন করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। আল্লাহর নিকট পানাহ চাই নফসের সমস্ত অনিষ্টতা ও কর্মকাণ্ডের কু পরিণতি থেকে। আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি এক। তাঁর কোন শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিজন, সাহাবা-ই-কেরাম -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
আবু হুরায়রা -রাদিয়াল্লাহু আনহু- হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
মুনাফেকের নিদর্শন তিনটি। যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে, আর তার নিকট কোন আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যদিও সে রোযা রাখে, যদিও সে নামায পড়ে এবং মনে করে সে একজন মুসলিম। [মুসনাদে আহমাদ: ২/৫৩৬]

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য




পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

এ পৃথিবীর বুকে পিতা-মাতার সম্মান ও মর্যাদা নিঃসন্দেহে শীর্ষস্থানীয়। মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর একমাত্র উপাস্য ও অভিভাবক। আর পিতা-মাতা হ’ল শুধু তার সন্তানদের ইহকালীন জীবনের সাময়িক অভিভাবক। সুতরাং সন্তানদের কাজ হ’ল, মহান স্রষ্টা ও পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার যাবতীয় হুকুমের সাথে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা ও তাদের মান্য করা। সন্তান জন্মের পর বাল্য, শৈশব বা কৈশোর পর্যন্ত পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানেই থাকে এবং সম্পূর্ণ অনুগত থাকে। অতঃপর যৌবনে ও সংসার জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে পিতা-মাতার সঙ্গে তার সন্তানদের মতভিন্নতা দেখা দিতে পারে, এটা স্বাভাবিক। সেজন্য মহাজ্ঞানী আল্লাহ তা‘আলা পিতা-মাতার সঙ্গে তার সন্তানদের বাল্য জীবনের ভালবাসার ন্যায়ই সারা জীবন তা মযবূত ও বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, 
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَاناً حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهاً وَّوَضَعَتْهُ كُرْهاً وَّحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاَثُوْنَ شَهْراً حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِيْنَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِيْ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِيْ أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِيْ فِيْ ذُرِّيَّتِيْ إِنِّيْ تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ.
‘আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্ট সহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌঁছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পসন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমারই অভিমুখী হ’লাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম’ (আহক্বাফ ১৫)।

পর্দা কেন?

পর্দা কেন?



সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময় এবং যিনি বিচার দিনের মালিক। আর উত্তম পরিণতি কেবলই মুত্তাকীদের জন্য। একমাত্র যালিম ছাড়া আর কারো জন্য কোন প্রকার দুশমনি নাই। হে আল্লাহ! তুমি সালাত ও সালাম নাযিল কর এবং বরকত দান কর তোমার বান্দা ও তোমার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তার পরিবার-পরিজন ও তার সমস্ত সাহাবীদের উপর। আমীন।

ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে নারীরা অনেক বড় নেয়ামত, দয়া, সহানুভূতি ও উপকার লাভ করেছে। যেমন- ইসলাম নারীদের ইজ্জত সম্মান ও পুত-পবিত্রতা রক্ষা করেছে এবং তাদের সম্ভ্রম রক্ষার গ্যারান্টি দিয়েছে। ইসলাম নারীদের উচ্চ মর্যাদার আসন দিয়েছে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু নারীদের জন্য ইসলাম লেবাস-পোশাক, সৌন্দর্য প্রদর্শন ও চলা ফেরা ইত্যাদির ক্ষেত্রে যে সব বিধি-নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, তা শুধু সামাজিক অনিষ্টতা ও ফেতনা ফ্যাসাদ থেকে বাঁ‍চার যাবতীয় উপায় উপকরণের পথকে বন্ধ করার নিমিত্তেই করেছে। নারীদের প্রতি অবিচার কিংবা কোন প্রকার বৈষম্য সৃষ্টির জন্য করেনি। ইসলাম তাদের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করে তাদের স্বাধীনতা হরণ করা কিংবা তাদের গৃহবন্দী করার জন্য করেনি। বরং, তারা যাতে তাদের জীবনে চলার পথে চরম অবনতি ও অপমানের খপ্পরে না পড়ে এবং তারা যাতে মানুষের দৃষ্টির লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত না হয়, তা থেকে বাঁচানোর জন্য ইসলাম বিধি-নিষেধ ও পর্দা করার বিধান নাযিল করেন।

আমরা আমাদেরে এ সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে পর্দার ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা করব, যাতে পর্দার প্রতি নারীদের আগ্রহ তৈরি হয়। এ ছাড়াও পর্দার সৌন্দর্য, উত্তম পরিণতি ও ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব, যাতে পর্দার প্রতি আগ্রহ থাকে। তারপর আলোচনা করব সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দা না করার ভয়াবহ পরিণতি, দুনিয়া ও আখিরাতে সৌন্দর্য প্রদর্শন বা পর্দাহীনতার কুফল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের ইচ্ছার নিত্য সঙ্গী, তিনিই আমাদের সবকিছু এবং উত্তম অভিভাবক।  

পর্দার ফযিলত

পর্দা করা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ:
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার আনুগত্য করা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুকরণ করাকে মুমিনদের জন্য ওয়াজিব করেছেন[1]আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করীমে এরশাদ করে বলেন,
﴿وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ]سورة الأحزاب[36  .
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে
 আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন,
﴿فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥] سورة النساء: [65
অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নারীদেরকে পর্দা করার নির্দেশ দেন এবং বলেন,
﴿وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَاۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّۖ ]سورة النــور 31: .[
আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জা-স্থানের হিফাজত করবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও বলেন,
﴿وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰۖ  ]سورة الأحزاب: [33
“আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক- জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।”
আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,
﴿ وَإِذَا سَأَلۡتُمُوهُنَّ مَتَٰعٗا فَسۡ‍َٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٖۚ ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوبِكُمۡ وَقُلُوبِهِنَّۚ ] سورة الأحزاب: [ 53.
আর যখন নবী-পত্নীদের কাছে তোমরা কোন সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল  থেকে চাইবে; এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّ  ]سورة الأحزاب:  [59.
হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিল-বাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« المرأة عورة »
 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নারীরা হল, সতর। অর্থাৎ নারীদের জন্য পর্দা করা ওয়াজিব। [হাদিসটি সহীহ]