এই ব্লগটির একমাত্র উদ্দেশ্য কুর‘আন ও সুন্নাহ্র আলোকে ইসলামের প্রকৃত বার্তা ছড়িয়ে দেয়া। ... (বাংলা ভাষায় ৭৫০টির অধিক ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন উপকরণের এক বিশাল সমাহার!)
শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৩
তওবা : কেন ও কিভাবে
তাক্বদীরঃ আল্লাহ্র এক গোপন রহস্য (২য় পর্ব)
তাক্বদীরঃ আল্লাহ্র এক গোপন রহস্য (২য় পর্ব)
১. তাক্বদীর বিরোধী কথাবার্তা বলাঃ
যেমন: বিপদাপদ এলে কেউ কেউ তাক্বদীরকে মেনে না নিতে পেরে বলে, হে আল্লাহ! আমি কি করেছি? অথবা বলে, আমি এমন ফলাফলের যোগ্য নই! অনুরূপভাবে কেউ কেউ কারো বিপদ এলে তার উদ্দেশ্যে বলে, বেচারার এমন বিপদ হল, অথচ সে এমন মুছীবতের যোগ্য নয়; তাক্বদীর তার প্রতি অবিচার করেছে!
তাক্বদীরঃ আল্লাহ্র এক গোপন রহস্য (১ম পর্ব)
তাক্বদীরঃ আল্লাহ্র এক গোপন রহস্য (১ম পর্ব)
বুধবার, ৮ মে, ২০১৩
কবীরা গুনাহ
সূচীপত্র
ক্রম শিরোনাম
১ ভূমিকা
২ কবীরা গুনাহ কী?
৩ ১ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা’
৪ ২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষ হত্যা করা
৫ ৩ নং কবীরা গুনাহ: যাদু
৬ ৪ নং কবীরা গুনাহ: সালাত ত্যাগ করা
৭ ৫ নং কবীরা গুনাহ: যাকাত আদায় না করা
৮ ৬ নং কবীরা গুনাহ: সঙ্গত কারণ ছাড়া রমযানের সাওম ভঙ্গ করা বা না রাখা
৯ ৭ নং কবীরা গুনাহ: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করা
১০ ৮ নং কবীরা গুনাহ: মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া
১১ ৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং নিকট আত্মীয়দের পরিত্যাগ করা
১২ ১০ নং কবীরা গুনাহ: ব্যভিচার করা
১৩ ১১ নং কবীরা গুনাহ: পুং মৈথুন এবং স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করা
১৪ ১২ নং কবীরা গুনাহ: সুদ খাওয়া
১৫ ১৩ নং কবীরা গুনাহ: ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা
১৬ ১৪ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপ করা
১৭ ১৫ নং কবীরা গুনাহ: যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা
১৮ ১৬ নং কবীরা গুনাহ: শাসক ব্যক্তি কর্তৃক প্রজাদেরকে ধোকা দেওয়া এবং তাদের ওপর অত্যাচার করা
১৯ ১৭ নং কবীরা গুনাহ: গর্ব, অহংকার, আত্মম্ভরিতা, হট-ধর্মিতা
২০ ১৮ নং কবীরা গুনাহ: মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া’
২১ ১৯ নং কবীরা গুনাহ: মাদক দ্রব্য সেবন করা
২২ ২০ নং কবীরা গুনাহ: জুয়া খেলা
২৩ ২১ নং কবীরা গুনাহ: সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া
২৪ ২২ নং কবীরা গুনাহ: গনীমতের মাল আত্মসাৎ করা
২৫ ২৩ নং কবীরা গুনাহ: চুরি করা
২৬ ২৪ নং কবীরা গুনাহ: ডাকাতি করা
২৭ ২৫ নং কবীরা গুনাহ: মিথ্যা শপথ
২৮ ২৬ নং কবীরা গুনাহ: যুলুম, অত্যাচারা করা
২৯ ২৭ নং কবীরা গুনাহ: চাঁদাবাজী ও অন্যায় টোল আদায়
৩০ ২৮ নং কবীরা গুনাহ: হারাম খাওয়া, তা যে কোনো উপায়ে হোক না কেন
৩১ ২৯ নং কবীরা গুনাহ: আত্মাহত্যা করা
৩২ ৩০ নং কবীরা গুনাহ: অধিকাংশ সময় মিথ্যা বলা
৩৩ ৩১ নং কবীরা গুনাহ: মানব রচিত বিধানে দেশ পরিচালনা ও বিচার ফয়সালা করা
৩৪ ৩২ নং কবীরা গুনাহ: বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করা
৩৫ ৩৩ নং কবীরা গুনাহ: মহিলা পুরুষের বেশ ধারণ করা এবং পুরুষের মহিলার বেশ ধারণ করা
৩৬ ৩৪ নং কবীরা গুনাহ: আপন স্ত্রীকে ব্যভিচারে সুযোগ দেওয়া
৩৭ ৩৫ নং কবীরা গুনাহ: হালালকারী এবং যার জন্য হালাল করা হয় উভয়ে গুনাহগার
৩৮ ৩৬ নং কবীরা গুনাহ: পেশাব থেকে বেঁচে না থাকা
৩৯ ৩৭ নং কবীরা গুনাহ: চতুষ্পদ জন্তুর চেহারা বিকৃতি করা
৪০ ৩৮ নং কবীরা গুনাহ: দুনিয়া অর্জনের লক্ষ্যে ইলমে দীন শিক্ষা করা এবং সত্যেকে গোপন করা
৪১ ৩৯ নং কবীরা গুনাহ: খিয়ানত করা
৪২ ৪০ নং কবীরা গুনাহ: খোটা দেওয়া
৪৩ ৪১ নং কবীরা গুনাহ: তাকদীরকে অস্বীকার করা
৪৪ ৪২ নং কবীরা গুনাহ: মানুষের নিকট অন্যের গোপন তথ্য ফাঁস করা
৪৫ ৪৩ নং কবীরা গুনাহ: পরনিন্দা করা
৪৬ ৪৪ নং কবীরা গুনাহ: অভিশাপ করা
৪৭ ৪৫ নং কবীরা গুনাহ: গাদ্দারী করা, ওয়াদা পালন না করা
৪৮ ৪৬ নং কবীরা গুনাহ: গণক ও জ্যোতির্বিদদের বিশ্বাস করা
৪৯ ৪৭ নং কবীরা গুনাহ: স্বামীর অবাধ্য হওয়া
৫০ ৪৮ নং কবীরা গুনাহ: কাপড় , দেওয়াল ও পাথর ইত্যাদিতে প্রাণীর ছবি আঁকা
৫১ ৪৯ নং কবীরা গুনাহ: শোক প্রকাশার্থে চেহারার উপর আঘাত করা, মাতম করা, কাপড় ছেড়া, মাথা মুণ্ডানো বা চুল উঠানো, বিপদের সময় ধ্বংসের জন্য দো‘আ করা
৫২ ৫০ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা
৫৩ ৫১ নং কবীরা গুনাহ: দুর্বল, চাকর-চাকরানী, স্ত্রী ও চতুষ্পদ জন্তুর ওপর অত্যাচার করা
৫৪ ৫২ নং কবীরা গুনাহ: প্রতিবেশীদের কষ্ট দেওয়া
৫৫ ৫৩ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া ও গালি দেওয়া
৫৬ ৫৪ নং কবীরা গুনাহ: অহংকার করে লুঙ্গি কাপড় ইত্যাদি ঝুলিয়ে পরিধান করা
৫৭ ৫৫ নং কবীরা গুনাহ: স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করা
৫৮ ৫৬ নং কবীরা গুনাহ: পুরুষের স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পরিধান করা
৫৯ ৫৭ নং কবীরা গুনাহ: গোলামের পলায়ন করা
৬০ ৫৮ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশে পশু যবেহ করা
৬১ ৫৯ নং কবীরা গুনাহ: জেনে শুনে অন্যকে পিতা বলে স্বীকৃতি দেওয়া
৬২ ৬০ নং কবীরা গুনাহ: তর্ক-বির্তক, ঝগড়া এবং শত্রুতা পোষণ করা
৬৩ ৬১ নং কবীরা গুনাহ: প্রয়োজনের অতিক্তি পানি দান করতে অস্বীকার করা
৬৪ ৬২ নং কবীরা গুনাহ: ওজনে ও মাপে কম দেওয়া
৬৫ ৬৩ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিত হওয়া
৬৬ ৬৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত জন্তু, প্রবহিত রক্ত এবং শুকরের গোশত খাওয়া
৬৭ ৬৫ নং কবীরা গুনাহ: জুমু‘আর সালাত ও জামা‘আত চেড়ে দিয়ে বিনা কারণে একা একা সালাত আদায় করা
৬৮ ৬৬ নং কবীরা গুনাহ: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া
৬৯ ৬৭ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা
৭০ ৬৮ নং কবীরা গুনাহ: ষড়যন্ত্র করা এবং ধোক দেওয়া
৭১ ৬৯ নং কবীরা গুনাহ: মুসলিমদের ত্রুটি-বিচ্যুতি তালাশ করা এবং তাদের গোপন তথ্য প্রকাশ করা
৭২ ৭০ নং কবীরা গুনাহ: কোনো সাহাবীকে গালি দেওয়া
৭৩ ৭১ নং কবীরা গুনাহ: অন্যায় বিচার
৭৪ ৭২ নং কবীরা গুনাহ: ঝগড়া করার সময় অতিরিক্ত গালি দেওয়া
৭৫ ৭৩ নং কবীরা গুনাহ: কোনো বংশ বা তার লোকদের খারাপ গুণে অভিহিত করা
৭৬ ৭৪ নং কবীরা গুনাহ: মৃত ব্যক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক ও উচ্চ শব্দে কান্নাকাটি করা
৭৭ ৭৫ নং কবীরা গুনাহ: যমীনের সীমানা উঠিয়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা
৭৮ ৭৬ নং কবীরা গুনাহ: অপসংস্কৃতি ও কু-প্রথার প্রচলন করা অথবা বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করা
৭৯ ৭৭ নং কবীরা গুনাহ: নারী অন্যের চুল ব্যবহার করা, শরীরে উলকি আকা, ভ্রু উপড়ানো, দাত ফাক করা
৮০ ৭৮ নং কবীরা গুনাহ: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কারো দিকে ইশারা করা
৮১ ৭৯ নং কবীরা গুনাহ: হারাম শরীফে ধর্মদ্রোহী কাজ করা
মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৩
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা
এ বইটি সংকলনে যে সকল গ্রন্থের সাহায্য নেয়া হয়েছে
أهم المراجع لهذا الكتاب :
1- الرؤيا وما يتعلق بها – للشيخ عبد الله بن جار الله الجار الله
2- تفسير الأحلام - للإمام محمد بن سيرين رحمه الله
3- القواعد الحسنى في تأويل الرؤى – للشيخ عبد الله بن محمد السدحان
4- مقدمة ابن خلدون
5- إعلام الموقعين - للإمام ابن القيم رحمه الله
6- تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان للشيخ عبد الرحمن السعدي – رحمه الله
২- স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু কথা
৩- স্বপ্ন দেখলে করণীয়
৪- মিথ্যা স্বপ্নের কথা বলা অন্যায়
৫- ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে
৬- কয়েকটি ভাল স্বপ্নের উদাহরণ
৭- স্বপ্ন দেখলে যা করতে হবে
৮- খারাপ স্বপ্ন দেখলে কি করবে?
৯- কে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেবে?
১০- স্বপ্নের ব্যাখ্যা যেভাবে করা হয় তা-ই সংঘটিত হয়
১১- তাবীরের বিভিন্ন প্রকার
১২- কোরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত
১৩- হাদীস দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যার কয়েকটি দৃষ্টান্ত
১৪- বিপরীত অর্থ গ্রহণ নীতিতে স্বপ্ন ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত
১৫- কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ
১৬- মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা
১৭- স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. এর কিছু বক্তব্য
১৮- ভাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেরীতে হয়
১৯- শেষ কথা
সোমবার, ৬ মে, ২০১৩
বিদ’আত থেকে সাবধান!
বিদ’আত থেকে সাবধান!
বিদ’আত থেকে সাবধান!-১
সুপ্রিয় ভাই, দ্বীনের মধ্যে যখন বিদআতের প্রার্দূভাব দেখা দেয় তখন দ্বীন ধীরে ধীরে দূর্বল হতে থাকে। এক পযার্যে তা মৃত্যু বরণ করে। তাই বিষয়টির গুরুত্বের কারণে এই ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিদ’আত সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হবে। আলোচনায় আপনাদের যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয় তবে অনুগ্রহ পূর্বক প্রশ্ন করবেন। ইনশআল্লাহ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তাহলে সবাইকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদেরকে সঙ্গে পাব। আজকের পোষ্টে যে সকল বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
১) বিদআতের সংজ্ঞা (শাব্দিক অর্থ ও ইসলামের পরিভাষায় বিদআত কাকে বলে)
২) বিদআতের প্রকারভেদ।
৩) দ্বীনের মধ্যে বিদআতের বিধান।
৪) একটি সর্তকতা (বিদআতকে ভাল ও খারাপ এ দুভাগে ভাগ করা প্রসঙ্গে)।
বিদআতের সংজ্ঞাঃ
বিদআত শব্দটি আরবী البدع শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে। এর অর্থ হল পূর্বের কোন দৃষ্টান্ত ও নমুনা ছাড়াই কোন কিছু সৃষ্টি ও উদ্ভাবন করা। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
তিনি আরো বলেন:
অর্থাৎ মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে আমিই প্রথম রেসালাতের দায়িত্ব নিয়ে আসিনি বরং আমার পূর্বে আরো অনেক রাসূল আগমণ করেছেন।”
ইসলামের পরিভাষায় বিদআত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয় তৈরী করা, যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদার যুগে ছিলনা বরং পরবর্তীতে উদ্ভাবন করা হয়েছে।
রবিবার, ৫ মে, ২০১৩
সালাম ও তার বিধি-বিধান
সালাম ও তার বিধি-বিধান
হে পাঠক ভাইয়েরা! ‘আসসালামু আলাইকুম ওরাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ আল্লাহ তোমাদের দয়া করুক!
তোমরা অবশ্যই একটি কথা মনে রাখবে, মুসলিমদের মধ্যে সালামের প্রচার-প্রসার ইসলামের একটি মহান ঐতিহ্য ও বিশেষ সৌন্দর্য। আর সালাম পরস্পর সালাম বিনিময় করা একজন মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের অধিকার ও দায়িত্ব। এ ছাড়াও সালাম বিনিময় করা ঈমানের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়-মুসলিমদের মধ্যে পরস্পর মহব্বত ও ভালোবাসা- যা একজন মুসলিমকে জান্নাতে নিয়ে যায়, তা সৃষ্টির কারণ হয়। যেমন- আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
শনিবার, ৪ মে, ২০১৩
দানে বাড়ে সম্পদ বৃদ্ধি পায় মর্যাদা
দানে বাড়ে সম্পদ বৃদ্ধি পায় মর্যাদা
صَدَقَةٌ ‘সাদাকাতুন’ একটি আরবি শব্দ, বাংলা অর্থ হলো: দান করা। আর এ দান প্রধানত: দুই প্রকার,
এক: ওয়াজিব যা অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক ।
যেমন,
(১) নিসাবের মালিক তথা শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মালের মালিক হলে প্রতি বছর নির্ধারিত হারে অর্থের জাকাত দেওয়া ও জমিনে উৎপন্ন শস্যাদির ওশর প্রদান করা।
(২) সামর্থ্য থাকলে প্রতি বছর কোরবানি করা।
আর এ শ্রেণীর দানগুলো সাধারণত: একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়। যথা জমাকৃত বা সঞ্চিত অর্থের উপর যখন এক বছর পূর্ণ হবে তখন তাতে জাকাত ফরজ হবে এবং তা থেকে নির্ধারিত হারে জাকাত দিতে হবে। উৎপাদিত শস্যাদি মাড়াই শেষে যখন ঘরে উঠবে, তখন তা থেকে ওশর আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, শস্যাদির ক্ষেত্রে বছর পূর্ণ হওয়া পূর্ব শর্ত নয়। তাই এ ওশর প্রদান একই বছরে একাধিকবারও হতে পারে। যেমন ইরিধানের মৌসুম শেষে যদি আমন ধানও নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তা থেকেও একই বছরে পুনরায় ওশর দেয়া অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইরিধানের ওশর দেয়া হয়েছে বলে আমনের ওশর দেয়া থেকে বিরত থাকা চলবে না। অন্যথায় ওশর অনাদায়ের আজাব ভোগ করতে হবে। লক্ষণীয় যে এ জাতীয় বাধ্যতামূলক দান, সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়। বরং কেবলমাত্র বিত্তশালী বা সামর্থবান ও ধনীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(৩) রমজানের রোজার ফিৎরা প্রদান করা
(৪) নজর বা মানত পূর্ণ করা।
তিন ও চার নম্বর দানও বাধ্যতামূলক। তবে এ জাতীয় দান কেবলমাত্র ধনী নয় বরং ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এ ছাড়া এ শ্রেণীর দান তথা ফিৎরা আদায় ও মানত পূর্ণ করা দানগুলোও পূর্বোক্ত দানের ন্যায় একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করা আব্যশক অর্থাৎ সর্বোচ্চ ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বেই ফিৎরা আদায় করা এবং কৃত মানতের সময় সীমার মধ্যেই তা পূর্ণ করা জরুরি। অন্যথায় তা যথাযথভাবে আদায় বলে গণ্যে হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী, না মাটির তৈরী?
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী, না মাটির তৈরী?
আমাদের মনে রাখতে হবে, সৃষ্টির উপাদানের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তির মর্যাদা নির্ণয় করা সরাসরি কুরআন ও হাদীছ বিরোধী কথা। কারণ মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেনঃ.
‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’ পরহেযগার”। (সূরা হুজুরাত: ১৩)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
হে মানব মণ্ডলি! নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক এক, সাবধান! কোন আরবীর আজমীর (অনারব) উপর, কোন আজমীর আরবীর উপর প্রাধান্য নেই। অনুরূপভাবে কোন লাল বর্ণের ব্যক্তির কালো ব্যক্তির উপর, কোন কালো ব্যক্তির লাল বর্ণের ব্যক্তির উপর প্রাধান্য নেই। প্রাধান্য একমাত্র তাকওয়া পরহেযগারিতার ভিত্তিতে হবে। ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’-পরহেযগার (আহমাদ প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ। দ্রঃ শাইখ আলবানীর গায়াতুল মারাম, পৃঃ১৯০, হা/৩১৩)।
এ জন্যই তো আযরের মত মূর্তী পুজারী মুশরিক ব্যক্তির ঔরষজাত সন্তান ইবরাহীম (আলাইহিস্ সালাম) অন্যতম শ্রেষ্ঠ নবী, শুধু কি তাই মহান আল্লাহর খলীল তথা অন্তরঙ্গ বন্ধুও বটে, তার মিল্লাতের অনুসরন করার নির্দেশ আমাদের নবীকেও করা হয়েছে। পক্ষান্তরে নূহ নবীর মত একজন সম্মানিত ব্যক্তির ঔরষজাত সন্তান কাফের হওয়ার জন্য নিকৃষ্ট ব্যক্তি। বীর্য থেকে মানুষ সৃষ্টি হলেও মানুষই বীর্য অপেক্ষা উত্তম। এমনকি তুলনা করাটাও অনর্থক। আদী পিতা আদম (আলাইহিস্ সালাম) মাটির তৈরী হলেও মাটির থেকে তিনি সন্দেহাতীতভাবে উত্তম, এমনকি তুলনা করাটাও বাহুল্য কাজ..। আবু লাহাব সম্মানিত কুরাইশ বংশের হয়েও অতি নিকৃষ্ট কাফের, যার শানে আল্লাহ সূরা মাসাদ (লাহাব) নাযিল করেছেন। মহান আল্লাহ এই সূরায় বলেনঃ পরম করুনাময়, দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু। ‘আবু লাহাবের দুটি হাত ধ্বংস হোক, সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার সম্পদ, ও যা সে উপার্জন করেছে -কোনই কাজে আসেনি। সে অচিরেই লেলিহান অগ্নিতে প্রবেশ করবে। এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে। (সূরা আল মাসাদ{লাহাব})
এ থেকেই অকাট্যভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার জন্মের উপাদানের উপর ভিত্তিশীল নয়। বরং এই শ্রেষ্টত্ব এবং সম্মান তাক্বওয়ার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কাজেই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূর থেকে সৃষ্টি না হয়ে মাটি থেকে সৃষ্টি হওয়া তাঁর জন্য মোটেও মানহানিকর বিষয় নয় যেমনটি অসংখ্য বিদআতী তাই ধারণা করে বসেছে। বরং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরী হয়েও সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব, সর্বাধিক মুত্তাক্বী-পরহেযগার। সমস্ত সৃষ্টি কুলের সর্দার, নবীকুল শিরোমণী, আল্লাহর খালীল-অন্তরঙ্গ বন্ধু। আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে হাশরের মাঠে মহান শাফাআতের অধিকারী, হাওযে কাউছারের অধিকারী, সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী। মাক্বামে মাহমূদের অধিকারী, রহমাতুল লিল আলামীন, শাফিঊল লিল মুযনিবীন। এসব বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাঝে কোনই দ্বিমত নেই। ইহাই ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের বিশ্বাস। যুগ পরম্পরায় এই বিশ্বাসই করে আসছেন সকল সুন্নী মুসলিম।
শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩
দাড়ি কামিয়ে ফেলার ফলে সংঘটিত সাতটি গুনাহ
দাড়ি কামিয়ে ফেলার ফলে সংঘটিত সাতটি গুনাহ
(১) অবাধ্যতা
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
"আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল যখন কোনো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোনো মুমিন পুরুষ ও কোনো মুমিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোনো রকম এখতিয়ার থাকবে না - (যে তারা তাতে কোনো রদবদল করবে); যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে, সে নিসন্দেহে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।" (আল-আহযাব ৩৬)
"তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা জ্বিন ২৩)
"রাসূল তোমাদের যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং সে যা কিছু নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।" (হাশর ৭)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"আর আমি যাকিছু নিষেধ করেছি তা থেকে বেঁচে থাকো" [৩]
হযরত আমর ইবন শুয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“বার্ধক্যে (সাদাচুলকে) উপড়ে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য আলোকবর্তিকা হবে”। (তিরমিযি, আবু দাউদ, রিয়াদুস সালেহিন ১৬৪৬)
"যে আমার সুন্নাহ'র বিরাগভাজন হয়, তার আমার সাথে কোন লেনদেন নেই।" (বুখারী, ৪৬৭৫)
দাড়ি কিংবা মাথা থেকে চুল উপড়ে ফেলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে, যে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে সে কালো কিংবা সাদা উভয় প্রকার চুলের বৃদ্ধিকেই অপছন্দ করে থাকে,অথচ সাদা দাড়িকে কিয়ামতের দিন মুসলমানের জন্য নূর হিসেবে বলা হয়েছে। ইমাম গাযযালী এবং ইমাম নওয়াবী (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়ে বলেছেন, "যখন দাড়ি গজাতে শুরু করে তখন তা উপড়ে ফেলা হল মুরদ'দের [৪] সাথে সাদৃশ্য এবং একটি বড় মুনকারাত(মন্দ কাজ)"
যাকাত ও যাকাতের উপকারিতা প্রসঙ্গে
যাকাত ও যাকাতের উপকারিতা প্রসঙ্গে
যাকাত ইসলামের পাঁচটি ফরযের একটি। কালিমায়ে শাহাদাত ও সালাতের পর যাকাতের স্থান। কুরআন-হাদিস ও মুসলিমের ইজমা দ্বারা এর ফরযিয়্যাত প্রমাণিত। যাকাতের ফরযিয়্যাত অস্বীকারকারী কাফের ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদ। তাকে তওবার জন্য বলা হবে, যদি তওবা করে গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় তাকে হত্যা করা। আর যাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করল অথবা কম আদায় করল সে যালেমদের অন্তর্ভুক্ত ও আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
সবর : কী ও কেন
সবর : কী ও কেন
দান-ছদকার ফযীলত
দান-ছদকার ফযীলত
ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা’আলা। তিনি যাকে ইচ্ছা উহা প্রদান করে থাকেন। এজন্য এ সম্পদ অর্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বিধি-নিষেধ মেনে চলা আবশ্যক। সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও সৎ পথে উহা ব্যয় করা হলেই তার হিসাব প্রদান করা সহজ হবে। কিয়ামতের দিন যে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোন মানুষ সামনে যেতে পারবে না, তম্মধ্যে দু’টি প্রশ্নই ধন-সম্পদ বিষয়ক। প্রশ্ন করা হবে, কোন পথে সম্পদ উপার্জন করেছ এবং কোন পথে উহা ব্যয় করেছ।
সন্দেহ নেই ধন-সম্পদ নিজের আরাম-আয়েশ এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রে ব্যয় করার অনুমতি ইসলামে আছে এবং অনাগত সন্তানদের জন্য সঞ্চিত করে রাখাও পাপের কিছু নয়। কিন্তু পাপ ও অন্যায় হচ্ছে, সম্পদে গরীব-দুঃখীর হক আদায় না করা। অভাবী মানুষের দুঃখ দূর করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। অথচ আল্লাহ বলেন:




.jpg)

.jpg)



