শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

সদকার গুরুত্ব ও ফযিলত

সদকার গুরুত্ব ও ফযিলত



আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে ধনী ও সম্পদশালী বানিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আসলে বিত্তশালীরা বিত্তহীনদের সাথে কেমন আচরণ করে আল্লাহ তাআলা  তা দেখতে চান।
বাস্তবার আলোকে বলতে হয় আজ বিশ্বের মুসলিমরা আল্লাহর কোনো বিধানই  যথার্থভাবে পালন করছে না। মুসলিম সমাজ যদি জাকাত, সদকা প্রদানে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করত তবে সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজ আজকের মত দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হত না।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৩

কেউ যদি তার যিম্মায় থাকা (ছুটে যাওয়া) সালাতের ও ফরয সাওমের সংখ্যা মনে করতে না পারে, তবে সে কী করবে?

কেউ যদি তার যিম্মায় থাকা (ছুটে যাওয়া) সালাতের ও ফরয সাওমের সংখ্যা মনে করতে না পারে, তবে সে কী করবে?


ফাত্‌ওয়া নং - 72216

প্রশ্ন : যদি কোন মুসলিমের ছুটে যাওয়া সালাত ও সিয়ামের সংখ্যা মনে না থাকে, তবে সে কিভাবে তার কাযা করবে?

উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য
প্রথমত:
ছুটে যাওয়া সালাতের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা হতে পারে :
প্রথম অবস্থা :
ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত ছুটে যাওয়া এ অবস্থায় তার উপর কাযা করা ওয়াজিব এর দলীল রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :
من نسي صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها رواه البخاري (572 ) ومسلم ( 684 ) واللفظ له - .
যে সালাত আদায় করতে ভুলে যায় বা সে সময় ঘুমিয়ে থাকায় তা ছুটে যায়, তার কাফফারাহ হলো সে যখনই তা মনে করবে তখনই (সাথে সাথে) সালাত আদায় করে নিবে [বুখারী (৫৭২) ও মুসলিম (৬৮৪)(শব্দ চয়ন) সহীহ মুসলিমের]

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৩

শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ

শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ



শবে বরাতঃ সঠিক দৃষ্টিকোণ

আলোচ্যসূচি 
১। লেখকের কৈফিয়ত 
২। কতিপয় মূলনীতি
৩। ‘শবে বরাত’ এর অর্থ
৪। আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেই
৫। শবে বরাত নামটি হাদীসের কোথাও উল্লেখ হয়নি
৬। ফিকহের কিতাবে শবে বরাত
৭। শবে বরাত সম্পর্কিত প্রচলিত আকীদাহ-বিশ্বাস ও ‘আমল
৮। শবে বরাতের সম্পর্ক শুধু ‘আমলের সাথে নয়
৯। শাবানের মধ্যরজনীর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহের পর্যালোচনা
১০। শাবানের মধ্যরজনীর সম্পর্কিত হাদীসসমূহ পর্যালোচনার সারকথা
১১। ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা সম্পর্কিত একটি হাদীস ও উহার পর্যালোচনা
১২। সৌভাগ্য রজনী ধর্ম বিকৃতির শামিল
১৩। শবে বরাত সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের বক্তব্য
১৪। শবে বরাত সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহর অবস্থান
১৫। শবে বরাত সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার দায়িত্ব উলামায়ে কিরামের
১৬। একটি বিভ্রান্তির নিরসন
১৭। বিদ‘আত সম্পর্কে কিছু কথা
১৮। বিদ‘আতের কুফল
১৯। সন্দেহজনক নফল ‘আমল থেকে দূরে থাকা উত্তম
২০। সর্বশেষ আহ্বান
২১। প্রমাণপঞ্জী

শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন, শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন, শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি



শাবানের পনেরতম রজনী উদযাপন, শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

শবে বরাত সম্পর্কে বিশ্ব বরেণ্য আলেম শায়খ আবদুল আযীয আবদুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ এর প্রবন্ধ -
حكم الاحتفال بليلة النصف من شعبان للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله
‘মধ্য শাবানের রাত উদযাপনের বিধান’ এর সার-সংক্ষেপ তুলে ধরব। তার এ প্রবন্ধে অনেক উলামায়ে কিরামের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ 
اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا. (المائدة : ৩)
অর্থঃ আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের জন্য আমার নেআমাত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসাবে মনোনীত করলাম। (সূরা আল - মায়িদা: ৩) 
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেনঃ
أم لهم شركاء شرعوا لهم من الدين ما لم ياذن به الله.(الشورى : ২১)
অর্থঃ তাদের কি এমন কতগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য ধর্মের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?   (সূরা আশ শুরা: ২১)
হাদীসে এসেছেঃ
عن عائشة رضى الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد.
  (رواه البخاري ومسلم)
অর্থঃ যে আমাদের এ ধর্মে এমন কিছুর প্রচলন করবে যা ধর্মের মধ্যে ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
হাদীসে আরও এসেছেঃ
عن جابر رضى الله عنه أن النبى صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبة يوم الجمعة : أما بعد فإن خير الحديث
كتاب الله وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة.
(رواه مسلم
অর্থঃ সাহাবী জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু‘আর খুতবায় বলতেনঃ আর শুনে রেখ! সর্বোত্তম কথা হল আল্লাহর কিতাব ও সর্বোত্তম পথ-নির্দেশ হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ-নির্দেশ। আর ধর্মে নতুন বিষয় প্রচলন করা হল সর্ব নিকৃষ্ট বিষয়। এবং সব ধরনের বিদআতই পথভ্রষ্টতা। (সহীহ মুসলিম)

এ বিষয়ে অনেক আয়াতে কারীমা ও হাদীস রয়েছে যা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ইসলাম ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। আর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কোন রকম অলসতা করেননি বা কার্পণ্যতা দেখাননি। ইসলাম ধর্মের সকল খুটিনাটি বিষয় তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর উম্মতের সামনে বর্ণনা করে গেছেন যা আজ পর্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর যে সমস্ত নতুন আচার-অনুষ্ঠান, কাজ ও বিশ্বাস ধর্মের আচার বলে যা চালিয়ে দেয়া হবে তা সবগুলো প্রত্যাখ্যাত বিদআত বলেই পরিগণিত হবে, উহার প্রচলনকারী যে কেউ হোক না কেন এবং উদ্দেশ্য যত মহৎ হোক না কেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ও তাদের পরবর্তী উলামায়ে ইসলাম এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন বলে তারা বিদআতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ও অন্যদের বিদ‘আতের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

এ ধারাবাহিকতায় উলামায়ে কিরাম মধ্য শাবানের রাত উদযাপন ও ঐদিন সিয়াম পালন করাকে বিদআত বলেছেন। কারণ এ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আমল করা যেতে পারে এমন কোন দলীল নেই। যা আছে তা হল কিছু দুর্বল হাদীস যার উপর ভিত্তি করে আমল করা যায় না। উক্ত রাতে সালাত আদায়ের ফযীলাতের যে সকল হাদীস পাওয়া যায় তা বানোয়াট। এ ব্যাপারে হাফেয ইবনে রজব রহ. তার কিতাব লাতায়িফুল মায়ারিফে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৩

কোরআন-হাদীসের আলোকে শাফাআত

﴿ الشفاعة في ضوء القرآن والسنة
                                                                              


বিষয় সূচী

* ভূমিকা                                                   
* শাফাআতের অর্থ                                        
* শাফাআতের প্রকারভেদ                                 
* শরীয়ত সম্মত শাফাআতের প্রকারভেদ               
* শাফাআতের মালিক কে?                               
* শাফাআতের পার্থক্য                                     
* শাফাআত কখন অনুষ্ঠিত হবে?                         
* শাফাআত কারা করবেন?                               
* শাফাআতের শর্ত                                         
* কারা শাফাআত থেকে বঞ্চিত হবে?                    
* শাফাআত ব্যতীত কেউ কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?    
* কার নিকট শাফাআতের দুআ -করব?                 
* শাফাআতের দুআ কীভাবে করব?                      
* গাইরুল্লাহর নিকট শাফাআতের দুআ করার হুকুম    
* শাফাআত সম্পর্কে মুফসসিরগণের অভিমত           
* শাফাআত সম্পর্কে আকাঈদ শাস্ত্রবিদদের মতামত     
* একটি বিশেষ আবেদন      

গান-বাদ্য ও এর কুপ্রভাব

গান-বাদ্য ও এর কুপ্রভাব


গান-বাদ্য ও এর কুপ্রভাব

গত কয়েক বছরে নাচ-গানের চর্চা অকল্পনীয় মাত্রায় বেড়েছে। দেশে যেখানে শিক্ষা-গবেষণা ও সুনাগরিক তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই, সেখানে চরিত্রবিধ্বংসী নাচ-গানের পেছনে অনুদান বা বিনিয়োগ তথা আগ্রহের অন্ত নেই। যেখানে রোজই চিকিৎসার অর্থ না পেয়ে মৃত্যুর জন্য প্রহরগোনা অসহায় মানুষের করুণ মুখ পত্রিকায় ছাপা হয় সেখানেই বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের উপার্জিত অর্থের অনেকটাই ঢালে নৃত্য ও সঙ্গীতের পেছনে! এখনো যেখানে বিরাটসংখ্যক মানুষের বাস দারিদ্রসীমার নিচে, আজো যারা পেটের আগুন নেভাতে গিয়ে নিজের ঈমান পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে বাধ্য হয়, সেখানকারই একশ্রেণীর নাগরিক নির্দ্বিধায় পঞ্চাশ হাজার টাকায় কেনে এক সন্ধ্যার কনসার্টের টিকেট! যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, সেখানে আবার অনেক কিন্ডারগার্টেনে নিষ্পাপ শিশুদের নৃত্য ও সঙ্গীত শেখা বাধ্যতামূলক! আমরা যে আজ নাচ-গানে কতটা মেতেছে তা প্রমাণে বোধ হয় আর কিছু বলার দরকার নাই। তারপরও খানেকটা ইঙ্গিত দেয়া যাক।  

তাওবার ফজিলত

 তাওবার ফজিলত



তাওবার ফজিলত

আল্লাহ যে কাজে সন্তুষ্ট এমন সব কাজ কর্ম করুন। কেননা কোন মানুষই অপরাধ ও ত্রুটি মুক্ত নয়। আর সমস্ত আদম সন্তানই ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। আর উত্তম ভুলকারী হল আল্লাহর কাছে তওবাকারী আর মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে এবং মহানবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ হাদীসের মাধ্যমে গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন যে,
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ (فصلت: من الآية৬)
অর্থাৎ, হে রাসূল আপনি বলুন নিশ্চয় আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ আমার নিকট প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়। আর নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ এমন মাত্র। তোমরা তার পথেই স্থির ও সুদৃঢ় থাক এবং তারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।

বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়

বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়


বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়

লেখার শিরোনাম দেখেই অনেকে চমকে উঠতে পারেননা আসলে চমকাবার কিছু নেইসবার জীবনেই আসে বিয়ের ঘটনাআর বিয়ের আগে আসে কনে দেখার পর্ব ইসলাম শুধু নামায-রোযার নয়; ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাতাই এখানে সালাত-সিয়ামের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে-শাদীর আমলও অনেক গুরুত্বপূর্ণআজকাল মসজিদে আমরা মুসলিম পরিচয় বজায় রাখি; কিন্তু বিয়ে-শাদীতে কেন যেন ইসলাম পরিপন্থী কাজই বেশি করিবিয়ে-শাদীর আগে যেহেতু কনে দেখার পর্ব তাই আগে বিয়ের প্রস্তাব বা কনে দেখা সংক্রান্ত ইসলামী নির্দেশনাগুলো আগে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি এ নিবন্ধে আল্লাহ আমাদের সহায় হোন

আল্লাহর পথে দা‌ওয়াত

﴿ الدعوة إلى الله تعالى
                                                                                  
                                                                        
  সুন্নাতের আলোকে মুমিনের জীবন-১ 

আল্লাহর পথে দা‌ওয়াত 

ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল-হামদু লিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। ওয়াআলা আলিহী ওয়া আসহাবিহী আজমাঈন।
আল্লাহর পথে আহবান করতেই নবী-রাসূলগণের পৃথিবীতে আগমন। মুমিনের জীবনের আন্যতম দায়িত্ব এই দাওয়াত। কোরআনুল কারিমে এ দায়িত্বকে কখনো দাওয়াত, কখনো সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ, কখনো প্রচার, কখনো নসিহত ও কখনো দীন প্রতিষ্ঠা বলে অভিহিত করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এ কাজের গুরুত্ব, এর বিধান, পুরস্কার, এ দায়িত্ব পালনে অবহেলার শাস্তি, ও কর্মে অংশগ্রহণের শর্তাবলী ও এর জন্য আবশ্যকীয় গুণাবলী আলোচনা করেছি এই পুস্তিকাটিতে। এ বিষয়ক কিছু ভুলভ্রান্তি, যেমন বিভিন্ন অজুহাতে এ দায়িত্বে অবহেলা, ফলাফলের ব্যস্ততা বা জাগতিক ফলাফল ভিত্তিক সফলতা বিচার, এ দায়িত্ব পালনে কঠোরতা ও উগ্রতা, আদেশ, নিষেধ বা দাওয়াত এবং বিচার ও শাস্তির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, আদেশ নিষেধ বা দাওয়াত এবং গীবত ও দোষ অনুসন্ধানের মধ্যে পার্থক্য ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করেছি। সবশেষে এ ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে সুন্নাতে নববী এবং এ বিষয়ক কিছু ভুলভ্রান্তির কথা আলোচনা করেছি।
হাদিসের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সহিহ বা নির্ভরযোগ্য হাদিসের উপর নির্ভর করার চেষ্টা করেছি। মুহাদ্দিসগণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষার মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ধারণ করেছেন, যে নিরীক্ষা-পদ্ধতি বিশ্বের যে কোনো বিচারালয়ের সাক্ষ্য-প্রমাণের নিরীক্ষার চেয়েও বেশি সূক্ষ্ম ও চুলচেরা। এর ভিত্তিতে যে সকল হাদিস সহিহ বা হাসান অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে আমি আমার আলোচনায় শুধুমাত্র সে হাদিসগুলিই উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।
অতি নগণ্য এ প্রচেষ্টাটুকু যদি কোনো আগ্রহী মুমিনকে উপকৃত করে তবে তা আমার বড় পাওয়া। কোনো সহৃদয় পাঠক দয়া করে পুস্তিকাটির বিষয়ে সমালোচনা, মতামত, সংশোধনী বা পরামর্শ প্রদান করলে তা লেখকের প্রতি তাঁর এহসান ও অনুগ্রহ বলে গণ্য হবে।
মহান আল্লাহর দরবারে সকাতরে প্রার্থনা করি, তিনি দয়া করে এ নগণ্য কর্মটুকু কবুল করে নিন এবং একে আমার, আমার পিতামাতা, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও পাঠকদের নাজাতের ওসিলা বানিয়ে দিন। আমীন!

রবিবার, ৯ জুন, ২০১৩

যখন চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে

যখন চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে



যখন চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে

সমুদ্র ভ্রমণে বন্ধুর আমন্ত্রণ, না করতে পারেনি সাজিদঅল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়ে পড়ল প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাহনে চেপে বসল সী-ট্রাকের ছাদে দাঁড়িয়ে চারিদিকের মোহনীয় সব দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারাবার পালাপ্রকৃতি এত সুন্দর? এত অপরূপ মহান স্রষ্টার সৃষ্টি? এ যে কল্পনাকেও হার মানায়উপরের নীল আকাশ সাগরের রূপালী জলরাশিতে নীল চাদর বিছিয়েছে যেন, কি অপরূপ নীলাভ করে তুলেছে তাকেবহুদূর থেকে ছুটে আসা দক্ষিণা সমীরণ তরঙ্গ তুলে আরো মোহনীয় করে তুলেছে সমুদ্র গভীর থেকে জেগে উঠা তরঙ্গরাজি মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের সাক্ষ্য দিচ্ছে যেন সী-ট্রাকের প্রাচীরে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির হিল্লোল দেখছে আর বিস্ময়াভিভূত হচ্ছে সাজিদ কেবল মহান আল্লাহর দ্বারাই এই সৃষ্টি সম্ভব যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ, জমিন, পাহাড়, সমুদ্র... সবকিছু সাজিদ ভাবছে আর আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুরাগ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে পরিস্থিতির সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়ে চারিদিক দেখছে আর উদ্বেলিত হচ্ছেদেখছে সমুদ্র বুক চিরে সী-ট্রাক অপূর্ব ভঙ্গিমায় এগিয়ে যাচ্ছে সম্মুখ পানেসেই সৌন্দর্য্য আরোও উপভোগ করার জন্য নিচের দিকে তাকাল সাজিদ বিশাল এক ঢেউ আছড়ে পড়ল সী-ট্রাকের গায়প্রচন্ডভাবে কেঁপে উঠল সী-ট্রাকসাজিদ শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারল না, আর অমনি বিপদ আপতীত হল সিটকে গিয়ে পানিতে পড়ল সাজিদ বিপদ আরো তীব্রতা লাভ করলকারণ সে ভাল সাতার জানে না বাঁচাও! বাঁচাও! করে সাজিদ স্বজোরে চিৎকার জুড়ে দিল এ দিকে বিশাল বিশাল ঢেউও যেন তাকে পরাভূত করতে একের পর এক আঘাত হানতে লাগল বজ্রধ্বনির ন্যায় গর্জন করে ডাকতে লাগল ইয়া জিলানি! ইয়া দাসুকি! ইয়া গাউসুল আজম! ইয়া খাজাবাবা... তার ধারণায় এরা তাকে উদ্ধার করতে পারবে সে ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করছে আর বিকট আওয়াজে চিৎকার করছেএরই মাঝে নাফিসের দৃষ্টি তার উপর পড়ল নাফিস, পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়সের শক্ত-সমর্থ এক পৌঢ় বীরচেহারায় আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট সফরের সহযাত্রীসী-ট্রাকের ছাদে বসে ছিলেন দেরি না করে লাইফ জ্যাকেট পরে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন

আদম ও হাওয়াকে একসঙ্গে সৃষ্টি না করার কারণ



আদম ও হাওয়াকে একসঙ্গে সৃষ্টি না করার কারণ

প্রশ্ন: আমি জনৈক নাস্তিকের সাথে কথা বলছিলাম, সে আমাকে প্রশ্ন করে বলল: আদম সৃষ্টির দীর্ঘ বিরতির পর কেন আল্লাহ হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন, অথচ তিনি জানতেন আদমের সঙ্গীর প্রয়োজন আছে? যদি তিনি সবকিছু জানেন, তাহলে কেন তাদের দু’জনকে একসঙ্গে সৃষ্টি করেননি? আমাকে জানিয়ে বাধিত করবেন, যেন তার উত্তর দিতে পারি।

উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ।

প্রথমত: আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, আল্লাহ যা চান তাই করেন, তাকে জবাবদিহি করা যায় না, তবে বান্দাদেরকে জবাবদিহি করা হবে। বান্দার অধিকার নেই রবকে প্রশ্ন করা, ‘কেন করেছেন’? 
ইমাম ইসহাক ইব্‌ন ইবরাহিম রহ. বলেন: “আল্লাহর কর্ম সম্পর্কে ঘাটাঘাটি করা যায় না, যেরূপ মানুষের কর্ম সম্পর্কে করা যায়। তিনি ইরশাদ করেন:
﴿ لَا يُسۡ‍َٔلُ عَمَّا يَفۡعَلُ وَهُمۡ يُسۡ‍َٔلُونَ ٢٣ ﴾ [الانبياء: ٢٣] 
তিনি যা করেন, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে[1] 
আল্লাহর কোনো সিফাৎ ও কর্ম সম্পর্কে বিবেক দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই, যেমন মানুষের স্বভাব ও কর্ম সম্পর্কে বিবেক দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে[2]

আদমকে বিভিন্ন ধাপে সৃষ্টি করার কারণ

আদমকে বিভিন্ন ধাপে সৃষ্টি করার কারণ



আদমকে বিভিন্ন ধাপে সৃষ্টি করার কারণ কি?

প্রশ্ন: আমরা জানি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা প্রত্যেক বস্তু "كن" শব্দ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আদমের ক্ষেত্রে এরূপ করা হয়নি কেন, কেন তাকে ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে? বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়, আশা করছি বুঝিয়ে বলবেন।

উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ।

প্রথমত: কুরআনুল কারিম থেকে জানা যায় যে, আদম আলাইহিস সালামকে মাটি দ্বারা, অথবা ঠনঠনে মাটি দ্বারা, অথবা কাদামাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব তার সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ, প্রয়োজন অনুসারে ধাপগুলো কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার, ৮ জুন, ২০১৩

বিয়ে : করণীয় ও বর্জনীয়


 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম


বিয়ে : করণীয় ও বর্জনীয়

মানব জীবনে বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীমবিয়ে মানুষকে দায়িত্ববান বানায় জীবনে আনে স্বস্তি ও প্রশান্তিবিয়ের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সক্ষম হয় যাবতীয় পাপাচার ও চারিত্রিক স্খলন থেকে দূরে থাকতেঅব্যাহত থাকে বিয়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে মানব সভ্যতার ধারাবৈধ ও অনুমোদিত পন্থায় মানুষ তার জৈবিক চাহিদা মেটায় কেবল এ বিয়ের মাধ্যমেএককথায় বিয়েতে রয়েছে প্রভুত কল্যাণ ও অননুমেয় উপকারিতাবিয়ের বিবিধ কল্যাণের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা তাই ইরশাদ করেন,  
وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাওআর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেননিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে'[1]

মুসলমানের আদব বা শিষ্টাচার

মুসলমানের আদব বা শিষ্টাচার



মুসলমানের আদব বা শিষ্টাচার

ইসলাম এমন কিছু উন্নত শিষ্টাচার, সুন্দর স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের উপর মুসলিম সন্তানদের গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেছে, যেটা মুসলিম প্রজন্মের শিক্ষা প্রশিক্ষণ, লালন-পালন ও তাদের চরিত্র বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করে থাকে। কথা কাজের ক্ষেত্রে উন্নত পন্থা অবলম্বন, সৎ স্বভাব গ্রহণ ও ঘৃণিত তথা মন্দ স্বভাব পরিত্যাগে নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য আদব তথা শিষ্টাচারের সকল দিকগুলোই বর্ণনা দিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানের শিষ্টাচার কি হবে, তাও বলে দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে যুদ্ধের সময় নারী-শিশু এবং যে সকল বৃদ্ধ যুদ্ধ করে না তাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। বারণ করেছেন গির্জা ও আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণকারী পাদ্রী, ধর্মযাজক ও সন্নাসী এবং শষ্যক্ষেত্রে চাষাবাদরত চাষীকে হত্যা করতে। এবং মৃতের দেহ বিকৃত করতে ও নিষেধ করেছেন। এমনিভাবে আরো অনেক আদব রয়েছে।

শুক্রবার, ৭ জুন, ২০১৩

জান্নাতের পথে

  

بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ

লাভ-লোকসানের মাঝে একজন মুসলিমের একটি মূল্যবান দিন

প্রিয় ভাই!

 আল্লাহ্ তা‘আলার হক আদায়ে সচেষ্ট হোন। আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে হেফাযত করবেন।
আপনি কি ফজরের সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করেছেন? ফজরের সালাতে আল্লাহ্ তা‘আলার যে সকল হক রয়েছে দিবসের শুরুতে তা কি আপনি যথাযথ আদায় করেছেন? 
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে বলেছেন:
مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِيْ جَمَاعَةٍ فَهُوَ فِيْ ذِمَّةِ اللهِ
‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করল, আল্লাহ স্বয়ং ঐ ব্যক্তির হেফাযতকারী হয়ে যান।’’[1]

বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩

কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম



কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম

ভূমিকা

الحمد لله وحده، والصلاة  والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:
জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এ গবেষণাটি একাধিক কিতাব ও বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে এখানে একত্র করা হয়েছে এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। জান্নাত ও জাহান্নাম কাকে বলে, প্রতিটির সংজ্ঞা, গুণাগুণ এবং কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচা যাবে? তার উপায় ও উপকরণগুলো এখানে আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

জিকির

জিকি



জিকি


আভিধানিক অর্থ :-স্বরণ করা, মনে করা, উল্লেখ করা, বর্ণনা করা।

পারিভাষিক অর্থ :-শরীয়তের আলোকে জিকির বলা হয়, মুখে বা অন্তরে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা এবং প্রশংসা করা, পবিত্র কুরআন পাঠ করা, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা, তার আদেশ-নিষেধ পালন করা, তার প্রদত্ত নেয়ামত ও সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। 

ইমাম নববী রহ. বলেন :- জিকির কেবল তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ ও তাকবীর ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আনুগত্যের সাথে প্রত্যেক আমলকারীই জিকিরকারী হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের উপর অবিচল রাখে। এ-কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রে গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ﴿41﴾ وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ﴿42﴾ (الأحزاب)
মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর। [সূরা আহযাব ৪১,৪২]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :—
وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآَصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ ﴿205﴾ الأعراف
তোমরা প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না। [সূরা আরাফ ২০৫]

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : নিফাক

অন্তর-বিধ্বংসী বিষয়সমূহ : নিফাক



ভূমিকা
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। আর সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদের উপর এবং তার পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবীগণের উপর।
মুনাফেকি বা কপটতা হল এমন একটি কঠিন ব্যাধি, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক ক্ষতিকর। মুনাফেকি বা কপটতা মানুষের অন্তরের জন্য এত ক্ষতিকর যে, তা মানুষের অন্তরকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়, যার ফলে একজন মানুষ দুনিয়াতে ঈমান হারা হয় এবং দুনিয়া থেকে তাকে বেঈমান হয়ে চির বিদায় নিতে হয় মানুষের অন্তর নষ্ট করার জন্য মুনাফেকি বা কপটতার চেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর আর কোন কিছুই হতে পারে না। একজন মানুষ কখনই মুনাফেকি বা কপটতাকে পছন্দ করে না। কিন্তু তারপরও তাকে তার অজান্তে মুনাফেকি বা কপটতাতে আক্রান্ত হতে হয়। বিশেষ করে নিফাকে আমলী বা ছোট নিফাক এর অর্থ এ নয় যে, মানুষ মুনাফেকি বা কপটতাকে প্রতিহত করতে অক্ষম বা মুনাফেকি বা কপটতা হতে বেঁচে থাকা মানুষের জন্য অসম্ভব। যারা মুনাফেকিকে হালকা করে দেখে বা নিফাক হতে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা কম করে তারাই মুনাফেকিতে আক্রান্ত হয়। নিফাক মানুষের যাবতীয় ভাল ও প্রশংসনীয় গুণকে ছিনিয়ে নেয় ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত করে। কুরআনে করীমে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অবস্থা তাদের গুণ ও তাদের তৎপরতা তুলে ধরে একটি সূরা নাযিল করেন। আমরা এ কিতাবে নিফাকের সংজ্ঞা, প্রকার, মুনাফিকদের চরিত্র ও নিফাক থেকে বাঁচার উপায়গুলো সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করব। যারা এ কিতাব লিখতে আমাদের সহযোগিতা করবে এবং মানুষের মধ্যে তা প্রকাশে অংশ গ্রহণ করবে আমরা তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد.